কলকাতা: জয়েন্টের প্রবেশিকায় বাংলা নেই কেন? সেই প্রশ্নে সরব হয়ে ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধর্না শুরু করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। জয়েন্টে আঞ্চলিক ভাষা হিসাবে শুধুমাত্র স্থান পেয়েছে গুজরাতি। আঞ্চলিক ভাষা হিসাবে বাংলা ব্রাত্য কেন? সেই প্রশ্নই তুলেছে তৃণমূল। শাসকদলের এই ধর্নায় রয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ধর্না মঞ্চ থেকেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী তথা তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও।

বাংলা ভাষার এই বঞ্চনার বিষয়টি খুব শীঘ্রই সংসদেও তোলা হবে বলে জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। সংসদে যদি তাঁদের কথা না শোনা হয় সেক্ষেত্রে ভারতবর্ষের প্রতিটি প্রান্তে এই নিয়ে তারা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে বলেও হুমকি দেয়। এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘বাংলার প্রতি নিরন্তর বঞ্চনা করা হচ্ছে, বাঙালির প্রতি এই বঞ্চনা মেনে নেওয়া যায় না। যতদিন না পর্যন্ত বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে ততদিন এই লড়াই চলবে।’ এই লড়াইতে একজোট থাকার আহ্বান জানান তিনি। জয়েন্টের প্রবেশিকায় বাংলা ভাষা যদি স্বীকৃতি না পায়, তবে আমরা দিল্লির বুক থেকে অধিকার ছিনিয়ে নেব।’

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই জয়েন্টে প্রবেশিকার পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে গুজরাতি ছাড়া অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষাগুলি কেন ব্রাত্য এই নিয়েই তৃণমূল ভবনে অন্যান্য সাংসদ এবং বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠক শেষেই সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ‘অন্য ভাষাতেও জয়েন্টের প্রশ্নপত্র হওয়া উচিত। আমার গুজরাতি ভাষায় কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু বাংলা বা অন্যান্য ভাষাগুলি ব্রাত্য থাকবে কেন? বাংলাসহ অন্যান্য ভাষাতেও চালু করতে হবে জয়েন্ট এন্ট্রান্স।’

এই দাবির পরই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ১১ নভেম্বর রাজ্যজুড়ে বাংলা এবং অন্যান্যা ভাষাতেও জয়েন্ট প্রবেশিকা চালু করার দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি আরও বলেছিলেন, ভাষা বৈষ্যম্যের প্রতিবাদেই হবে কর্মসূচি। এই মর্মে কেন্দ্র সরকারকে চিঠিও দিয়েছিল রাজ্য। কিছুদিন আগে এই একই দাবি নিয়ে নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে একটি টুইটও করেন তৃণমূলের যুব নেতা তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই ধরনের অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব।

এই প্রসঙ্গে বিজেপির তরফ থেকে জানান হয়, জয়েন্টে গুজরাতি ভাষার অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই গুজরাতি ভাষাকে জয়েন্টে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি নিয়ে সরকারি ভাবে কোনও পদক্ষেপ করতে চায়নি রাজ্য সরকার তাই ব্রাত্যই থেকে গিয়েছে বাংলাভাষা। উল্লেখ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন বৈঠকের পরই একটি বিবৃতি জারি করেছিল জাতীয় পরীক্ষক নিয়ামক সংস্থা (NTA)।

সেই বিবৃতিতে পরিষ্কার করে বলে দেওয়া হয় যে, ২০১৩ সালে গুজরাতি ভাষাতেও জয়েন্টের প্রশ্নপত্রের দাবিতে আবেদন জানিয়েছিল কেবলমাত্র গুজরাতই। সেই সময়ে অন্য কোনও রাজ্য আবেদন জানায়নি। এই কথা প্রসঙ্গ টেনেই শাসক দলের এই প্রতিবাদকে অন্তঃসারশূন্য বলে তোপ দেগেছে বিজেপি। বাংলা ভাষার মতই একই ভাবে কেন্দ্রের কোনও অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রতিনিধি হিসাবে প্রায়শই গরহাজির থাকেন বহু আমলাই। ফলে সেখানেও পিছিয়ে পড়ছে বাংলা। বাংলা ভাষাকে বঞ্চনা করা হচ্ছে এই বলে তৃণমূল ধর্নায় সুর চড়ালেও বিজেপি কিন্তু দুষছে শাসক দলকেই।