অরুণাভ রাহারায়, কলকাতা: “এবার সপ্তমীতে ব্যাংককে যাচ্ছি। তাই কলকাতার পুজো মিস করব। ষষ্ঠীর মধ্যে কিছু পুজো মণ্ডপ দেখে নেওয়ার ইচ্ছে আছে। তবে, টিভিতে একঘণ্টায় প্রায় তিরিশটা প্রতিমা দেখা হয়ে যায়। তাই এই বয়সে আর বাইরে বেরিয়ে ভিড়ের মধ্যে ঠাকুর দেখতে ইচ্ছে করে না। বিচারক হয়ে খুব কম সময়ে কলকাতার দুর্গা পুজোগুলো দেখেছি এক সময়। তবে গতবার থেকে আর বিচারকের ভূমিকায় থাকিনি। সরকারের পক্ষে থেকে একটা কার্ড পাই– তা দিয়ে অবশ্য কলকাতার পুজোগুলো অনায়াসেই দেখা হয়ে যায়।”

দুর্গাপুজো সম্পর্কে এসব কথাই উঠে এল আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চিত্রশিল্পী তথা রাজ্যসভার সাংসদ যোগেন চৌধুরীর কণ্ঠে। তাঁর সমস্ত পরিচয় ছবি দিয়ে। কবিতাও লেখেন তিনি। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে যোগেন চৌধুরীর কবিতার বই-ও। ফটোগ্রাফিতেও তাঁর দুরন্ত নেশা। এর আগে কলকাতায় প্রদর্শিত হয়েছে যোগেন চৌধুরীর ফটোগ্রাফি এগজিবিশন।

দুর্গাপুজোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী kolkata24x7-কে বলেন, “পুজোর দিনগুলোয় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে ভালবাসি। ২০১২ সালের সপ্তমীর দুপুরে আড্ডা দিতে চলে যাই ম্যান্ডেভিলা গার্ডেন্সে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে। আমার হাতে একটা ক্যামেরা ছিল। সেটা দিয়ে সুনীল বাবুর অনেক ছবি তুলি। কানাডাবাসী এক বন্ধু আড্ডায় এসে যোগ দেন। সুনীলকে বেশ অসুস্থ দেখাচ্ছিল। প্রচুর খাওয়াদাওয়া করি। এবং আড্ডা দিতে দিতে উত্তম-সুচিত্রা-ভানুর ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ সিনেমাটা দেখি। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় দেখে ভীষণ হেসেছিলাম সবাই মিলে।”

ওই বছরই নবমী নিশিতে স্বর্গদুয়ারে চলে যান নীললোহিত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। পুজো এলে তাই প্রিয় সুনীলকে মনে পড়ে যোগেন চৌধুরীর। তাঁর কথায়– “তখনও জানতাম না আমার ক্যামেরায় তোলা ওই ছবিগুলোই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের শেষ ছবি! স্বপ্নেও ভাবিনি এমনটা। সপ্তমীর আড্ডায় জানতাম না, পরের দিন চলে যাবে সুনীলবাবু। কয়েক বছর ধরে পুজো এলে এই কথাটাই বেশি মনে পড়ে। মন বিষণ্ণ হয়ে যায়।” বিষদ কাটিয়ে দেশের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়েও মুখ খোলেন সাংসদ যোগেন চৌধুরী। তিনি বলেন “এখন যে সামাজিক সংকট চলছে, তার মধ্যে দুর্গাপুজো আমাকে আলাদা করে আনন্দ দেয় না। আমি খুব চিন্তিত, দেশের অবস্থা যে জায়গায় পৌঁছেছে তা দেখে মনের আনন্দ থাকে না স্বাভাবিক ভাবেই। পুজোয় জোর করে আনন্দ করা যায় না।”

এরপর বিদেশে পুজো কাটানোর স্মৃতি উঠে আসে শিল্পীর গলায়, “একবার লন্ডনে দুর্গাপুজোর সময় ছিলাম। সমস্ত বাঙালি এক হয়ে সেখানে পুজো করে। প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার কুমোরটুলি থেকে। পুজো ঘিরে তাদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখার মতো। সেসব দেখে আমার ভালই লেগেছিল।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।