দেবযানী সরকার, কলকাতা: এখন দুর্গাপুজো আর পাঁচ দিনের নেই৷ মহালয়ার আগেই ঠাকুর দেখা শুরু হয়ে যায়৷ আর এই ব্যাপারটাই ঠিক পছন্দ নয় প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ যোগেন চৌধুরীর৷ কলকাতা 24×7-এ এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সেকথা জানিয়েছেন তিনি৷ তাঁর কথায়, “মহালয়ার আগে পুজোর উদ্বোধনটা একটু বাড়াবাড়িই”৷

২০১৭ সাল থেকে দেবীপক্ষের আগেই উৎসবের সূচনা হচ্ছে শহরে। উদ্বোধন হওয়ার পরই লোকজন বেরিয়ে পড়ছে ঠাকুর দেখতে৷ এব্যাপারে প্রশাসনেরও সায় আছে৷
পুলিশের একাংশের বক্তব্য, পুজো দেখার ভিড়টা পাঁচ দিনের বদলে দশ দিনে ছড়িয়ে গেলে আখেরে চাপ কম পড়বে। দর্শনার্থীরাও তুলনায় আরাম করে ঠাকুর দেখতে পারবেন। তাই গত দু-তিন বছর ধরে দশ দিন ধরে ঠাকুর দেখার হিড়িক পড়েছে৷

এব্যাপারে যোগেন চৌধুরী বলেন, “মহালয়ার আগে পুজোর উদ্বোধন আমার কাছে খুব অদ্ভুদ লাগে৷ একটু বাড়াবাড়িই মনে হয়৷ এসব না করে মানুষের জন্য অনেক কাজ করার রয়েছে আমাদের৷ আনন্দ-উৎসব ভাল৷ তবে মানুষের জন্য কাজের কথাও ভাবতে হবে৷”

সূচনাটা হয়েছিল লেকটাউন শ্রীভূমি স্পোর্টিং দিয়ে। মহালয়ার আগেই ওই পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গত বছরও মহালয়ার আগেই পুজো উদ্বোধন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রদীপ জ্বালিয়ে মন্ত্রোচ্চারণ করেছিলেন। যা নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। রাজনৈতিক শিবিরের একটি অংশ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শাস্ত্রীয় বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, মহালয়া পর্যন্ত পিতৃপক্ষ, তার পরে দেবীপক্ষের শুরু। দেবীপক্ষ আসার আগেই কী ভাবে পুজো উদ্বোধন করছেন মুখ্যমন্ত্রী? তবে এবছর মুখ্যমন্ত্রী মহালয়ার আগের দিন মণ্ডপ উদ্বোধন করলেও প্রদীপ জ্বালাননি৷

হাতিবাগান সর্বজনীনের পুজো উদ্বোধনে এসে মমতা বলেছিলেন, “আজ মায়ের প্রদীপ জ্বালাব না। চণ্ডীপাঠের মন্ত্র বলব না। কারণ, মহালয়া কাল, আজ পিতৃপক্ষ, ফুল দিয়েছি শুধু। প্রদীপ না জ্বালিয়ে ফুল দিয়ে মা’কে বরণ করলাম, আরেকটা নতুন কায়দায় মা’কে বরণ করেছি। মায়ের কাছে প্রার্থনা, সকলকে ভাল রাখুন।”