স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিগত চার বছরের মতোই এবারও বইমেলায় হইচই ফেলে দিতে হাজির ভাষানগর কবিতার গাড়ি। প্রতি বছর মাঠময় এই অভিনব গাড়িটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখে চমকে যান অনেকে, বিশেষত খুদেরা। সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে ৪৪তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার মাঠেও নতুন চমক নিয়ে হাজির কবিতার গাড়ি। মঙ্গলবার বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর কবিতার গাড়ির উদ্বোধন করেন রাজ্য সভার সাংসদ এবং চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী।

এমন এক অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা চলেছি, যখন আমাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এমন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন অনেকেই। ইতিমধ্যেই দেশ জুড়ে এনআরসি, সিএএ-র বিরোধিতায় নানা আন্দোলন গড়ে উঠেছে। এবার সেই আন্দোলনে সামিল ভাষানগর কবিতার গাড়ি। তবে একেবারেই ‘নিঃশব্দ’ ভাষানাগরিকদের এই আন্দোলন। গাড়ির গায়ে শিল্পিত ভাবে লেখা হয়েছে ‘না’।

উপস্থিত ছিলেন ভাষানগর পত্রিকার সম্পাদক সুবোধ সরকার। তিনি বলেন, “ফেলে দেওয়া রিকশা ভ্যানের ওপর কবিতার গাড়িটি বানিয়েছেন শিল্পী-স্থপতি সুমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছোট্ট মেয়ে অহনা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত চারবছর ধরে অবিশ্বাস্য সাড়া পেয়েছি। জাতি-ধর্ম-ছন্দ-প্রকরণ-নির্বিশেষে কবিতার বই পাওয়া যায় এখানে।”

আধুনিক চিত্রকলার মধ্যে দিয়ে কবিতার গাড়ির দেয়াল জুড়ে প্রকাশ করা হয়েছে ‘না’। শিল্পী সুমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় kolkata24x7-কে বলেন, “এবার আমাদের শ্লোগান ‘না’। আমরা জনগণের কাছে এই বার্তা দিতে চেয়েছি। এনআরসি, সিএএ নিয়ে চতুর্দিকে আন্দোলন। আন্দোলনে সামিল হল আমাদের কবিতার গাড়িও। মার্বেল ডাস্ট ব্যবহার করেছি।”

এদিন গাড়ির সামনে উদ্বোধন হয় মিহির সরকারের কবিতার বই ‘আমার প্রেম আমার কারাগার’। গাড়ির সামনে প্রতিদিনই থাকছে গান-কবিতাপাঠ-আড্ডা। এর আগে গান গেয়েছিলেন আমেরিকান কবি বব হলম্যান। গত বছর আমেরিকা থেকে এসেছিলেন আদিনা কারাসিক। বইমেলার ৫ নম্বর গেটে, গিল্ড অফিসের সামনে সাধারণত দেখা যাবে গাড়িটিকে। এছাড়া মাঝেমধ্যে ঘুরে বেড়াবে বইমেলার মাঠে। এমনটাই জানিয়েছেন কবিতার গাড়ির সদস্যরা।