মুম্বই: ডোপ টেস্টে ব্যর্থ হওয়ায় বিসিসিআই নির্বাসিত করেছে তরুণ ওপেনার পৃথ্বী শ’কে৷ ফলে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিযোগিতা মূলক ক্রিকেটে মাঠে নামতে পারবেন না তিনি৷ অসাবধানবশত কাফ-সিরাপের মাধ্যমে ওয়াডার নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা ড্রাগ শরীরে প্রবেশ করিয়েছিলেন পৃথ্বী৷ তরুণ মুম্বইকরের তথ্য-প্রমাণে সন্তুষ্ট হলেও নিয়ম অনুযায়ী তাঁর মাঠে নামায় প্রতিবন্ধকতা জারি করেছে ভারতীয় বোর্ড৷

এমন ঘটনা সামনে আসার পর ভারতীয় ক্রিকেটমহল স্তম্ভিত হলেও বিন্দুমাত্র বিচলিত নন ইংল্যান্ডের তারকা পেসার জোফ্রা আর্চার৷ কেননা তিনি বোধহয় আগে থেকেই জানতেন পৃথ্বীর এমন পরিণতি হতে চলেছে৷ না-হলে ঘটনার চার বছর আগে কেন এক সংক্ষিপ্ত টুইটে এমন প্রসঙ্গের উত্থাপণ করবেন আর্চার?

আরও পড়ুন: ডোপ টেস্টে ব্যর্থ ভারতীয় ওপেনারকে নির্বাসনে পাঠাল বিসিসিআই

আর্চার আগে থেকে জানতেন ভুলবশত কাফ-সিরাপ সেবন করে পৃথ্বী নির্বাসিত হবেন, এমন কথা বোকামির সমান হলেও ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জোফ্রার টুইটটি সামনে আসতেই ভবিষ্যতদ্রষ্টা হিসাবে ইংল্যান্ড তারকার নাম আবার সামনে চলে আসে৷

আসলে অতীতে আর্চার এমন সব উদ্ভট টুইট করেছিলেন, যেগুলি সেই সময়ে অপ্রাসঙ্গিক হলেও পরে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক প্রমাণিত হয়৷ বিশ্বকাপ চলাকালীনই আর্চারের এমন সব ভবিষ্যদ্বাণী করা টুইট একের পর এক সামনে আসতে থাকে, যে গুলি মিলে যায় হুবহু৷

আরও পড়ুন: ভাগ্যকে মেনে নিচ্ছেন তরুণ পৃথ্বী

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ফাইনালে যাওয়া, বিশ্বকাপ ফাইনাল সুপার ওভারে গড়ানো, অদ্ভূত নিয়মে নিউজিল্যান্ডের রানার্স হওয়া, ফাইনালে শেষ ৬ বলে ১৬ রানের টার্গেট, সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার ১০ রানে ২ উইকেট হারানো, ক্রিস ওকসের দুরন্ত বোলিং, স্টিভ স্মিথের কাম ব্যাক, ম্যাক্সওয়েলের ভুল শটে আউট হওয়া, বেয়ারস্টোর বিশ্বকাপে সফল হওয়া, জাদেজার দুরন্ত ব্যাটিং, এমন কী বৃষ্টিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ বার বার বাধা প্রাপ্ত হওয়া প্রভৃতি ঘটনা আর্চারের একদা করা ভবিষ্যদ্বাণী সূচক এক একটি টুইটের সঙ্গে হুবহু মিলে যেতে থাকে৷

বিশ্বকাপের বাইরেও পৃথ্বী শ’কে নিয়ে আর্চারের এমন টুইট সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়ে যায়৷ ২০১৫ সাল, অর্থাৎ পৃথ্বী তখন জাতীয় দলের ধারে কাছেও নেই, এত আগে আর্চার টুইটে লেখেন, ‘আনলাকি শ’৷ পৃথ্বীর নির্বাসনের খবর বোর্ডের তরফে জানানোর পরের দিনই আর্চারের সেই টুইটটি সামনে আসে৷ স্বাভাবিকভাবেই আর্চারের এমন অদ্ভূত ক্ষমতার জন্য অনুরাগীরা তাঁকে কুর্নিশ জানাতে কুণ্ঠা বোধ করেননি৷ অনেকেই আর্চারকে প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতে এসে জ্যোতিষী হিসাবে কেরিয়ার শুরু করার৷