লন্ডন: জোফ্রা আর্চারের বাউন্সারে মাথার আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলেন স্টিভ স্মিথ৷ শনিবার লর্ডসে ইংরেজ পেসারের দ্রুত গতির বাউন্সার ডেলিভারি ছাড়তে মাথার পিছনের দিকে আঘাত পান অজি ব্যাটসম্যান৷ সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি৷ তৎক্ষণাত ফিল হিউজের স্মৃতি উসকে দিয়েছিল ক্রিকেট মক্কায়৷

চোট গুরুতর না-হলেও ঝুঁকি নিয়ে মাঠ ছাড়েন প্রাক্তন অজি অধিনায়ক৷ কিন্তু লজ্জার সাক্ষী থাকল ক্রিকেট মক্কা৷ বাউন্সারের আঘাতে যখন স্মিথ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন৷ অস্ট্রেলিয়া দলের চিকিৎসক এবং ইংল্যান্ডের অন্য ক্রিকেটাররা যখন সহানুভূতি দেখিয়ে তার পাশে দাড়িয়েছেন, ঠিক তখন একটু দূরে দাড়িয়ে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জোস বাটলারের সঙ্গে হাসছেন আর্চার৷ এই অবস্থায় বেশ কিছুক্ষণ মাটিতে শুয়ে ছিলেন স্মিথ৷ পরে অজি দলের চিকিৎসক রিচার্ড শ-এর সঙ্গে মাঠ ছাড়েন চ্যাম্পিয়ন অজি ব্যাটসম্যান৷

 

এই দৃশ্য দেখার পর নেটিজেনদের সমালোচনার মুখে ক্যারিবিয়ান বংশোদ্ভুত বছর চব্বিশের ইংরেজ পেসার৷ বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্স করে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে জায়গা করে দেন আর্চার৷ লর্ডসে অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টে অভিষেক হয় তাঁর৷ অভিষেকেই নক্কারজনক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন আর্চার৷ এর আগেও তাঁর বাউন্সারে আর্মে আঘাত পান স্মিথ৷

মাঠ ছাড়ার আগে অবশ্য অ্যাশেজে নজির গড়েন স্মিথ৷ প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে অ্যাশেজে টানা সাতটি হাফ-সেঞ্চুরি বা তার বেশি স্কোর করেন তিনি৷ মাঠ ছাড়ার আগে লড়াকু হাফ-সেঞ্চুরি করেন স্মিথ৷ পরে অবশ্য সুস্থ হয়ে ফের মাঠে নামেন অজি ব্যাটসমান৷ তবে মাত্র আট রানের জন্য সেঞ্চুরি করেন৷ ক্রিস ওয়কসের বলে ব্যক্তিগত ৯২ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন স্মিথ৷

বৃষ্টিবিঘ্নতি লর্ডস টেস্টে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ২৫৮ রানের জবাবে ২৫০ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া৷ অর্থাৎ ৮ রানে প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে অজিবাহিনী৷ তবে ১০২ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর স্মিথের ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ে ফেরে অস্ট্রেলিয়া৷ এক বছর নির্বাসন কাটিয়ে অজি জার্সিতে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেই স্বপ্নের ফর্মে দেখা যায় স্মিথকে৷ এজবাস্টনে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টের দুই ইনিংস সেঞ্চুরি করেন তিনি৷ স্মিথের ১৪৪ ও ১৪২ রানে ভর করে এজবাস্টন টেস্ট ২৫১ রান জিতে অ্যাশেজে ১-০ এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া৷

গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কেপ টাউন টেস্টে বল বিকৃতি কাণ্ডের জন্য এক বছর জন্য নির্বাসিত হয়েছিলেন স্মিথ৷ সে সময় অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্ব ছিল স্মিথের কাঁধে৷ তাঁর সঙ্গে নির্বাসিত হয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার৷ কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগে নির্বাসন উঠে যাওয়ায় দলে ফেরেন স্মিথ ওয়ার্নার৷ তবে অ্যাশেজের হাত ধরে ফের টেস্ট ক্রিকেটে ফেরেন স্মিথ ও ওয়ার্নার৷ ফিরে ব্যাটে স্বমহিমায় দেখা গেল স্মিথকে৷