শ্রীনগর: ‘হাউ ইস দ্য জোশ?’ রুপোলি পর্দার সেই ডায়লগ আজও রেশ রেখে যায় নুন আনতে পান্তা ফুরোনো মধ্যবিত্তের মনে৷ দেশপ্রেমের রসে জারিত হয়ে খেটে খাওয়া ভারত দিনের লড়াই শেষে আওড়ায় উরি দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের না ভোলা উক্তি, হাউ ইস দ্যা জোশ? টিশার্টে, কফির কাপে, ব্যাগের গায়েও সেই ডায়লগের উপস্থিতি পণ্য বিক্রি বাড়ায় বৈ কমায় না৷ তবু সীমান্তের সেই গ্রামটা ভালো নেই৷

উরি৷ না, সিনেমা নয়৷ সীমান্তের কোলে ছোট্ট একটা আধা শহর৷ ২০১৬ সালে ৪ জঙ্গি যার ভবিষ্যত বদলে দিয়েছিল, সেই উরি৷ জোশের কথা জানে না সে৷ ঠিক কতটা জোর আসলে জোশ বাড়ে, তাও জানে না উরির মানচিত্র৷ সে শুধু বোঝে উনুনে হাঁড়ি চাপছে কিনা৷ সে শুধু বোঝে তার জিনিস বিকোল কীনা৷ আর দেখে মাস গেলে একটা নিশ্চিত মাইনের চাকরির স্বপ্ন৷ হ্যাঁ, জোশ নয়..চাকরি চায় উরি৷

উন্নয়ন খায় না মাথায় দেয়, উরির মানুষ জানেন না৷ চাকরি মিলবে? সে উত্তরও অজানা তাঁদের কাছে৷ তবে প্রতিশ্রুতি যে মিলবে, সে ব্যাপারে শ’ভাগ জানে গ্রামের মানুষ৷ গাল ভরা প্রতিশ্রুতি, বড় বড় আশ্বাস৷ যে আশ্বাস শুনলে কান জুড়োয়, কিন্তু মন জুড়োয় না৷ পেটও ভরে না৷ পোড়া পেট যে বড় অবাধ্য৷ সে শুধু খাবার খোঁজে, খাবার বোঝে৷

তাই দেশের তামাম নেতা মন্ত্রীদের কাছে একটাই প্রশ্ন তাঁদের৷ জোশের কথা তো অনেক হল, এবার কাজের কথা হোক? খাবারের কথা হোক? চাকরির কথা হোক? উপত্যকার বাসিন্দা বছর ২৪য়ের রশিদ মুখ খোলেন৷ কলেজ থেকে বেরিয়ে কাজ নেই৷ শুকনো কথায় জীবন যে চলবে না তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন বেকার জীবনে৷ ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন, বর্তমান নিয়ে অনিশ্চয়তা উরির দিনকালের মজ্জায় মিশছে স্লো পয়জনের মত৷

তবু উরি চায় না ৩৭০ ধারা উঠে যাক৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির জনসভায় আওয়াজ ওঠে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার বজায়ের পক্ষে৷ কিন্তু কোনও নেতাই কাশ্মীরের কর্মসংস্থান নিয়ে মুখ খোলেন না৷ এ এক আশ্চর্য প্রহসন৷ নেতা আসে, নেতা যায়, একপেট আগুন খিদের সমাধান হয় না৷

ভারত পাকিস্তানের দ্বন্দ্ব এই অবোধ খিদে বোঝে না৷ বেকারির জ্বালা সেনার বুলেট বোঝে না৷ ঘরে দিনের পর দিন উনুন না জ্বালানোর যন্ত্রণা নেতাদের ভাষণ আর প্রতিশ্রুতি বোঝে না৷ খাবার চায় উপত্যকা৷ কাজ চায়৷ খেটে খেতে চায়৷ ভোটের দিনগত পাপক্ষয়ে নেতার সভায় লোক ভরে৷ শুধু মানুষের হাতটাই খালি থেকে যায় দিনের শেষে৷

পাহাড়ের গা চুঁইয়ে ইকড়ি মিকড়ি রোদ নেমে যায় প্রতিটা দিন৷ উরির ক্ষুধার রাজ্যে তখন চাঁদই ঝলসানো রুটি৷