স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: বন্দুক ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরলে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো কাজও হয়েছে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায়। কিন্তু মালদহে কেএলও (কামতাপুর লিবারেশন অফ অর্গানাইজেশন) সংগঠন ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরেছেন প্রায় ৫০ জন সদস্য। এখন তারা কর্মসংস্থানের জন্য হন্যে হয়ে, পুলিশ ও প্রশাসনের দরজায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার ওই সংগঠনের প্রায় ৫০ জন সদস্যরা মালদহের পুলিশ সুপার অফিসে এসে তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। ওই সংগঠন ছেড়ে আসা অধিকাংশের বাড়ি হবিবপুর এবং বামনগোলা থানা এলাকায়। সংগঠনের সদস্যদের বক্তব্য, রাজ্য সরকার বলেছিলো বন্দুক ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসুন। তাহলে সকলকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

সেই মতো জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার জেলায় কেএলও সংগঠন ছেড়ে আসা বেশ কিছু সদস্যরা হোম গার্ডের চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু, মালদহের ক্ষেত্রে কোনও রকম চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে না। কাজ নেই ,সংসারের অভাব, আর চরম দারিদ্রতার মধ্যেই দিন কাটাতে হচ্ছে ওই সংগঠন ছেড়ে আসা সদস্যদের। তাই এদিন কর্মসংস্থানের দাবি নিয়ে, কেএলও সংগঠন ছেড়ে আসা সদস্যরা পুলিশ সুপারের অফিসে গিয়ে তাদের দাবি দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।

যদিও এই ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার অলক রাজোরিয়ার কোনও প্রতিক্রিয়া মিলেনি। তবে জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, রাজ্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কর্মসংস্থানের বিষয়ে অর্ডার আসলেই কাজ হবে।

এদিন পুলিশ সুপার অফিসে কেএলও জঙ্গি সংগঠন ছেড়ে আসা এক সদস্য প্রকাশ বর্মন বলেন, ”বিগত দিনে আমাকে কেএলও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করে। তারপর প্রায় দেড় বছর জেল খেটেছি। পরে জামিনে মুক্তি পাই। রাজ্য সরকার বলেছিল, এই সংগঠন ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরলে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। কিন্তু ২০১৬ সালের পর কেটে গিয়েছে তিন বছর। এখনও পর্যন্ত আমরা কোনও কাজ পাইনি। প্রায় দিনই পুলিশ ও প্রশাসনের দরজায় কাজের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। যদি কাজ না পায়, তাহলে আবার আমাদের বন্দুক ধরতে হবে। ফিরে যেতে হবে সেই অন্ধকার জগতে।”

ওই সংগঠন ছেড়ে আসা আরও দুই সদস্য সুকুমার রায়, সৌমেন সরকার বলেন, ”মালদহে কেএলও সংগঠনের যারা ছিলেন তারা প্রত্যেকেই সমাজের মূল স্রোতে ফিরে এসেছেন । মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন আমাদের কাজ দিবে। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কাজ পাইনি। পুলিশ ও প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। কিন্তু নতুন করে কর্মসংস্থানের ব্যাপারে আমাদের কিছু জানানো হচ্ছে না।

অথচ উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের এই সংগঠন ছেড়ে আসা সদস্যরা হোমগার্ডে চাকরি পেয়েছেন। আমরা কাজ পাচ্ছি না । কর্মসংস্থানের অভাবের সংসার নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছি। যদি কাজ না পাই তাহলে পেটের তাগিদে আবার আমাদের বন্দুক ধরতে হবে । এছাড়া আর কোনও উপায় নেই। একথা ওই দিন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের জানিয়েও দেওয়া হয়েছে।”