নয়াদিল্লি: বেকারত্বের জ্বালায় জ্বলছে গোটা দেশ। জিএসটির কোপে পরে বেহাল দশা কারখানাগুলোর। ধীরে ধীরে বিনিয়োগের হার কমছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কর্মী ছাঁটাই। প্রশ্ন জাগছে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে শ্রম মন্ত্রী সন্তোষ গাঙ্গওয়ার মন্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। যোগ্যতার অভাবেই নাকি উত্তর ভারতের মানুষেরা তাদের চাকরি হারাচ্ছেন।

একটি অনুষ্ঠান থেকে তিনি মন্তব্য করেন বিভিন্ন ক্ষেত্রেই চাকরির অনেক সুযোগ খোলা রয়েছে তবে উত্তর ভারতের মানুষেরা তাদের যোগ্যতার অভাবে ও চাকরি হারাচ্ছেন। অর্থাৎ তিনি চাকরি হারানো বা না পাওয়া নিয়ে সরাসরি আঙ্গুল তুলে দিলেন উত্তরের মানুষের দিকে। আরও জানান, আর্থিক হার কমার বিষয় নিয়ে তারাও যথেষ্ট চিন্তিত এ নিয়ে তারাও কাজ করছেন এই পরিস্থিতি বেশীদিন স্থায়ী হবে না।

তার সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং আজম খানের দিকেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অখিলেশ জি ভয় পেয়ে আছেন এবং কাউকে ছাড়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক যে রামপুরের মানুষজন আজম খানের মত একজন কে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করেছেন। যদিও বিগত বেশ কয়েক মাসে বিক্রির হার কম হওয়ার কারণে অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে চাকরি হারানোর হার অনেক বেশী।

যদিও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন দেশের অর্থনীতি সঠিক পথেই রয়েছে এবং অর্থনীতির এই নিম্নগামী হার বেশীদিন স্থায়ী হবে না। এর আগেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন বর্তমান প্রজন্ম ওলা এবং উবেরকে বেশী প্রাধান্য দেওয়াতেই গাড়ির বিক্রির হার কমছে।

শ্রমমন্ত্রীর এই মন্তবের বিরোধিতা করে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী জানান ‌দেশের অর্থনীতির বেহাল অবস্থার জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকার দায়ী। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারাই দেশ চালাচ্ছে। আর তাদের এই ভুল নীতির কারণেই আজ এই পরিস্থিতি। উত্তর ভারতের মানুষের ঘাড়ে দোষ দিয়ে পালানোর কোন মানে নেই। ‌

দেশে এই মুহূর্তে বেকারত্বের যা হার, তা গত ৪৫ বছরে দেখা যায়নি। লোকসানের ফলে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে গাড়ি নির্মাণ কোম্পানিগুলি। কারণ গাড়ির বিক্রি নেই। বেকার হয়ে পড়ছেন শ্রমিকরা। আর এদিকে অর্থমন্ত্রী মানুষের এই সব কথা বলে নজর ঘুরিয়ে দিতে চাইছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ‌‌