নয়াদিল্লি: কিছুদিন আগেও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়। রাজধানী জুড়ে ছড়িয়েছিল সেই বিক্ষোভের আঁচ। সেই ইউনিভার্সিটি প্রসঙ্গেই এবার বিস্ফোরক দাবি করলেন বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মমণ্যম স্বামী।

তাঁর দাবি, আপাতত বছর দুয়েকের জন্য বন্ধ থাক জেএনইউ। এরপর সুভাষ চন্দ্র বসুর নাম দিয়ে খোলা হোক এই বিশ্ববিদ্যালয়। সুভাষ চন্দ্রের নামের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি। কারণ সুভাষ চন্দ্র বসু জাতীয়তাবাদী ছিলেন।

দিল্লিতে জেএনইউ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুব্রহ্মমণ্যম স্বামী বলেন ,’এরকম বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেশে রয়েছে যার নাম নেহরুর নামে নামাঙ্কিত। আর সুভাষ চন্দ্রের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ হলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পড়ুয়াদের মধ্যেও।’

প্রসঙ্গত, ফরোয়ার্ড ব্লকের প্রতিষ্ঠাতা নেতাজির নামে জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণের প্রসঙ্গ তুলে জেএনইউতে বামছাত্রদের বিক্ষোভকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করেছেন স্বামী, বলে মনে করছেন অনেকেই। প্রসঙ্গত, সেখানে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির ভাঙচুর নিয়ে গোটা দেশের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে জেএনইউয়ের পড়ুয়াদের একাংশ।

সম্প্রতি, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে হোস্টেল ফি বৃদ্ধি ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দিল্লি। ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে জেএনইউ ক্যাম্পাস থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত মিছিলের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। সংসদ ভবনের দিকে মিছিল এগোতেই তা থামাতে তখন এগিয়ে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী। আসে র‍্যাফ,কমব্যাট ফোর্স, জলকামানও। চলে ছাত্র- পুলিশ ধস্তাধস্তি। আর তা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে লাঠিচার্জের অভিযোগ আনে ছাত্র-ছাত্রী এবং বিভাগীয় শিক্ষকেরা।

এই ধস্তাধস্তির মাঝে পড়ে জখম হন এক সাংবাদিকও। যদিও পুলিশ লাঠি চার্জের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনও বাহিনীর ব্যবহার করা হয়নি। উল্টে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের প্রায় ৩০ জন পুলিশকর্মী জখম হয়েছে বলে দাবি করে দিল্লি পুলিশ।