নয়াদিল্লি : লাগাতার ছাত্র বিক্ষোভের জেরে ফি বাড়ানো নিয়ে অবশেষে কিছুটা হলেও সুর নরম করল দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ । যার জেরে আবারও খবরের শিরোনামে দেশের অন্যতম নামী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। জানানো হয়েছে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রদের জন্য তাঁরা আনছে নতুন প্রকল্প।

শিক্ষাসচিব আর সুব্রহ্মণ্যম জানিয়েছেন, যে সকল ক্ষেত্রে ফি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল তা অনেকটাই কমানো হয়েছে। এছাড়াও আর্থিক ভাবে দুর্বল ছাত্রদের সাহায্য করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাকেত মুন জানিয়েছেন তাঁদের আন্দোলন চলবে। পুরোপুরি ফি মকুব করতে হবে। নয়তো আন্দোলন তারা চালিয়ে যাবেন। এছাড়াও তাঁরা ফি বৃদ্ধি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন।

সিঙ্গেল রুমের ক্ষেত্রে হোস্টেল ফি বেড়ে হয়েছিল ৩০০ টাকা। যা কমানোর ফলে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকাতে। তবে ডবল বেডরুমের ক্ষেত্রে দাম রয়েছে ২০০ টাকা। যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৬০০ টাকাতে। তার সঙ্গে বাড়ানো হয়েছিল আনুষঙ্গিক খরচ। এক ধাক্কাতে এতটা ফি বাড়ানোর ফলেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল ছাত্ররা। আর এর বিরুদ্ধে বিগত কয়েক দিন ধরেই আন্দোলন করছিল জেএনইউ ছাত্ররা। অবশেষে তাঁদের কাছে মাথা নীচু করে পিছু হটল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ । ছাত্রদের টুইট করে ক্লাসে যোগ দিতে বলা হলে ছাত্রদের তরফ থেকে পরিষ্কার করে জানানো হয় ফি মকুব না হলে ক্লাসে যোগ দেবেন না তারা। এছাড়া পিছিয়ে পড়া ছাত্রদের জন্য যে প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয় এনেছে তাও বিস্তারিতভাবে জানতে চান ছাত্ররা।

আর ফি বৃদ্ধি নিয়ে এই আন্দোলনের ফলে সোমবার সমাবর্তন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আটকে পড়েছিলেন কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিওয়াল ও ভেঙ্কাইয়া নাইডু। আর ছাত্র ও পুলিশের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। বিগত কয়েকমাস আগেই ছাত্র নিখোঁজ হওয়া নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। আর এবারে ফি মকুব নিয়ে ছাত্রদের এই আন্দোলনের ফলে আবারও খবরের শিরোনামে এল দেশের প্রথমসারির এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়।