কলকাতা: ক্যাম্পাসে হোস্টেল ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রায় এক মাস ধরে আন্দোলন চলছে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়। এবারে এই আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে নিগ্রহের অভিযোগ তুললেন জেএনইউ-এর উপাচার্য এম জগদেশ কুমার। শনিবার ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ঢুকতে গেলে তাঁকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এই হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শনিবার বিকেল সাড়ে চারটের সময় আমি কলা বিভাগের দিকে যাচ্ছিলাম। ঠিক তখনই প্রায় ১৫-২০ জনের একটি দল আমাকে হেনস্থা করে এবং আমাকে শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করে।’ দাবি, নিরাপত্তারক্ষীরা সময়মতো চলে আসায় আক্রমণকারীদের হাত থেকে কোনও মতে রেহাই পান তিনি। এই বিষয়ে তিনি বলেন ‘সৌভাগ্যবশত সাদা পোশাকের পুলিশ এবং নিরাপত্তাকর্মীরা আমাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসেন। কোনও মতে আমাকে উদ্ধার করে পাশের একটি গাড়িতে তুলে দেন তাঁরা। কিন্তু পড়ুয়ারা সেই গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ জানান তিনি।

অভিযোগ, তাঁকে অপর একটি গাড়িতে উঠিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে সেই গাড়িতেও আক্রমণ চালায় আন্দোলনকারীরা। এই আক্রমণের প্রতিবাদে তিনি বলেন ‘ছাত্রদের কাছ থেকে এই ধরনের ব্যবহার কখনই কাম্য নয়। সমস্ত ঘটনাই সিসিটিভি ফুটেজে তোলা রয়েছে শীঘ্রই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত প্রায় এক মাস ধরে হোস্টেল ফি ঘিরে উত্তাল জেএনইউ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। পড়ুয়ারা পরীক্ষাও বয়কট শুরু করেছেন। গত বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে সমাধানের লক্ষ্যে ছাত্র-শিক্ষক বৈঠক ডাকেন। কিন্তু সেই মিটিং নিষ্ফলা হয়। বৈঠক শেষে পড়ুয়ারা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন তাঁদের ‘দাবি’ শুনেও উপাচার্য কোনও ধরনের উত্তর দেননি।

এই প্রসঙ্গে জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদের তরফ থেকে জানানো হয়, ‘উপাচার্যের স্বভাবই হল আসল সমস্যা থেকে পালিয়ে বেড়ানো। উপাচার্যের দায়িত্ব পালনে উনি ব্যর্থ। আমাদের একটাই অনুরোধ নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করুন এবং আমাদের ন্যায্য দাবিগুলি মেনে নিন।’

এই আন্দোলনের মাঝেই গত বুধবারই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য,রেজিস্টার-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। যে সব পড়ুয়ারা আইন ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যালয় বিভাগের ১০০ মিটারের ভিতর আন্দোলনে সামিল হয়েছেন তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ তলব করেছে কোর্ট। আদালত অবমাননার জন্য ইতিমধ্যেই আবেদন দাখিল করতে বলেছে দিল্লি হাইকোর্ট।