ফাইল ছবি

অসম: খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর বেশ কয়েকজন জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ কিন্তু ৫ বছর ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল খাগড়াগড় বিস্ফোরণের চক্রী জেএমবি জঙ্গি আজহার৷ অবশেষে অসমের বরপেটা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ৷

ধৃত ২৫ বছরের আজহার জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি-র অন্যতম সক্রিয় সদস্য ছিল৷ সে শুধু পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের জড়িত তা নয়, অসমেও একাধিক নাশকতার ঘটনায় সে জড়িত বলে গোয়েন্দাদের দাবি। ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো ও এনআইএ-থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় অসম পুলিশ৷ অসমের বরপেটা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়৷ ওই এলাকায় সে আত্মগোপন করেছিল।

ইতিমধ্যেই খাগড়াগড় বিস্ফোরণ-কাণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে ব্যাংকশাল আদালত৷ ১৯ জনকে দোষী সাব্য়স্ত করে নগর দায়রা আদালত৷ ৫ বছর পরে এই মামলার সাজা ঘোষণা করা হয়৷ রায়ে জানা গিয়েছে, আমিনা বিবি ও রাজিয়া বিবির ৬ বছরের জেল এবং কুড়ি হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে৷ বাকি ১৭ জন অভিযুক্তের কারো ক্ষেত্রে ছয় বছর, কারো ক্ষেত্রে ৪ বছরের জেলের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে৷ সকলের ক্ষেত্রেই কুড়ি হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করেছেন নগর দায়রা আদালতের বিচারক ও এনআইএর বিশেষ আদালতের মুখ্য বিচারক সিদ্ধার্থ কাঞ্জিলাল।

রায়ে আরও বলা হয়েছে রেজাউল করিম ও আব্দুল হাকিমের আট বছরের কারাদণ্ড। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে শেখ রহমত উল্লাহ, শহিদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ রুমেলকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সকলকেই কুড়ি হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করেছেন বিচারক।খাগড়াগড় কাণ্ডে তিন বাংলাদেশীর ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নগর দায়রা আদালতের মুখ্য বিচারক। অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন ফজলে আহমেদ৷

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ ঘটেছিল৷ দু’তলা বাড়ির নীচের তলায় এই বিস্ফোরণকে ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে৷ প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা মনে হলেও পরে তদন্তে উঠে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গে ঘাঁটি করে প্রতিবেশী বাংলাদেশ সরকারকে উৎখাত ও সেদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি৷ পুরো ঘটনায় জড়িয়ে যায় জামাত উল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-র নাম৷ তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের রাজশাহী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে খাগড়াগড় বিস্ফোরণের মূল চাঁই হাতকাটা নাসিরুল্লাকে৷