স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : ভারতে জামাত জঙ্গিদের প্রধান নিয়োগ কর্তা ছিল ইজাজ আহমেদ। সোমবার তাকে গয়া থেকে গ্রেফতার করে কলকাতা এসটিএফ। তারপর ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে আসা হয় কলকাতায়৷ আজ মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হয় তাকে। কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স তাদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেন। বিচারক জঙ্গি নেতা ইজাজ আহমেদকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

গতকাল অর্থাৎ সোমবার সকালে গয়া ইজাজ আহমেদকে গ্রেফতার করে কলকাতা এসটিএফ। ইজাজ হল জেএমবি নেতা কওসর ঘনিষ্ঠ। ২০১৪ সালে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের অন্যতম মূল অভিযুক্ত ছিল জেএমবি নেতা কওসর৷ এসটিএফ তাকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে ইজাজ আহমেদের কথা জানতে পারে৷ তারপর থেকে তার খোঁজ চলছিল। বিহারের বুনিয়াদপুরে পাছানটোলি গ্রাম থেকে ইজাজকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)৷ এসটিএফকে সাহায্য করেছে আইবি ও গয়া পুলিশ৷

কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ইজাজ আসলে বীরভূমের বাসিন্দা৷ জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের এই নেতা আমির নামেও পরিচিত ছিল৷ কওসরকে গ্রেফতার করার পর ইজাজ আহমেদ ওরফে আমিরকে জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা করা হয়৷ তারপর থেকে ভারতে জামাত জঙ্গিদের প্রধান নিয়োগকর্তা হিসেবে কাজ করছিল এই নেতা৷ তার সঙ্গে ভারতে আইএস জঙ্গি সংগঠনের দায়িত্বে থাকা সালাউদ্দিন সালেহাঁ ও জেএমবি জঙ্গি কওসরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।

প্রসঙ্গত, বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ হয় ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর৷ প্রাথমিকভাবে এটি সাধারণ কোনও দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হয়৷ পরে উঠে আসে জেএমবি পরিচালিত বিশাল জঙ্গি চক্রের কথা৷ ২০১৪-র এই ঘটনায় এনআইএ-র ফাইল করা চার্জশিটে অভিযুক্ত কওসরকে ‘২৪ নম্বর’ এবং ‘জেএমবি-র শীর্ষ নেতা’ বলে উল্লেখ করা হয়৷ এবার তারই ঘনিষ্ঠ ইজাজ আহমেদকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ৷

পুলিশ ইজাজ আহমেদকে নিজেদের হেফাজতে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পুলিশ জানার চেষ্টা করছে তার মাধ্যমে কতজন জঙ্গি সংগঠনে নাম লিখিয়েছে। তারা এখন কোথায় আছে।