শ্রীনগর : একদিন ঝড় থেমে যাবে, ‘কাশ্মীর’ আবার শান্ত হবে৷ এই ছবি সেই প্রত্যয় ফেরায় মনে৷ এই ছবি জন্ম দেয় লাখো ভরসার৷ মনে হয় গুলি, বোমা, বন্দুকের কাশ্মীরে আজও প্রাণ আছে৷ আজও জীবন ছাপ ফেলে দৈনন্দিন গতানুগতিকতায়৷ যে ছবিতে এক মুসলিম মহিলা ঈদের নমাজ পাঠ করে সেনার হাত ধরে নিশ্চিন্তে বাড়ি ফেরেন৷

চারপাশে তখন বোমা আর গুলির শব্দ৷ সেনাকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়েছে ক্ষিপ্ত যুবকার৷ যে কোনও সময়ে প্রাণ বিপন্ন হতে পারে সাধারণ নাগরিকের৷ সাধারণ মানুষকে গার্ড করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তখন যুঝছেন ভারতীয় জওয়ানরা৷ তখনই অশান্তির ভাঙা মেঘে ধরা পড়ে গেল এক মুহুর্ত৷ সে মূহুর্ত জন্ম দিল লাখো আশার, লাখো স্বপ্নের৷

আরও পড়ুন : ISRO-র ইমেজিং স্যাটেলাইটগুলির সাহায্যে An-32 খোঁজ চালাচ্ছে এয়ারফোর্স

ছবিতে ধরা পড়ল এক কাশ্মীর পুলিশের হাত ধরে হেঁটে আসছেন এক বৃদ্ধা৷ মুখ ঢাকা বোরখায়৷ সম্ভবত ঈদের সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল কোনও কাজে৷ ফেরার সময় আটকে পড়েছিলেন বিক্ষোভ জমায়েতের জন্য৷ পাথরের হাত থেকে বাঁচিয়ে ওই বৃদ্ধাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিলেন ওই পুলিশ কর্মী৷ যে কোনও সময়ে পাথরের আঘাতে গুরুতর জখম হতে পারতেন ওই মহিলা৷

কিন্তু রীতিমতো দুই হাত দিয়ে তাঁকে আগলে বাড়ি পৌঁছে দেন ওই পুলিশ কর্মী৷ বারামুলার ছবিটি রীতিমত প্রশংসা কুড়িয়েছে৷ পুলিশ কর্মীর কর্তব্যবোধের প্রশংসা হয়েছে৷ আর অশান্ত কাশ্মীরে এই ছবি নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে নাগরিক জীবনে৷

উল্লেখ্য, ঈদের সকালে অশান্ত হয়ে উঠেছিল কাশ্মীর৷ সেনাকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে বিক্ষোভকারীরা৷ সব মিলিয়ে সকাল থেকেই উত্তপ্ত ছিল কাশ্মীরের একাধিক জেলা৷ ঈদের নমাজ পাঠ শেষ হতেই সংঘর্ষ শুরু হয়৷ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে থাকে বেশ কয়েক জন যুবকের একটি দল৷ শ্রীনগর, পুলওয়ামা, সোপোর, বারামুলা ও অন্যান্য জায়গায় এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে৷ বারামুলা জেলার সোপোরের জামিয়া মসজিদের সামনেই সংঘর্ষ শুরু হয়৷

আরও পড়ুন : জয় শ্রী রাম শুনলে ষাঁড়ের মত ক্ষেপে যান মমতা : অজয় ভাট

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন কাশ্মীরের স্বাধীনতা দাবি করে শ্লোগান দিচ্ছিল ওই যুবকরা৷ শোনা গিয়েছে ভারত বিরোধী শ্লোগানও৷ পরিচয় গোপন করার জন্য ওই যুবকদের মুখে কালো কাপড় বাঁধা ছিল৷ পাকিস্তান ও কিছু জঙ্গি সংগঠনের পতাকা তুলে ধরে শ্লোগান দিচ্ছিল ওই যুবকরা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের৷ রাস্তা জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করার চেষ্টা করেছিল ওই যুবকরা৷ তবে পুলিশ তাদের বাধা দেয়৷ মিছিল আটকাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়ে পুলিশ৷

এলাকার পরিস্থিতি শান্ত করতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়৷ সোপোর ছাড়াও এক মহিলা সহ দুজনকে গুলি করে খুন করার ঘটনা ঘটে৷ এক যুবক গুরুতর জখম হয়৷ ঈদের সকালে পুলওয়ামায় ঘটে এই ঘটনা৷