নয়াদিল্লি: যেভাবে বিজেপির সুরে কথা বলছেন জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্য পাল মালিক, তাতে সেই রাজ্যের বিজেপি প্রধানের পদ ভালো ভাবে সামলাতে পারবেন তিনি৷ এমনই কটাক্ষ লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর৷ সোমবার কাশ্মীর ইস্যুতে রাজ্যপালের ভূমিকার কড়া নিন্দা করেন তিনি৷

এদিন অধীর বলেন, যে ভাষায় কাশ্মীরের রাজ্যপাল কথা বলেন, তা বিজেপির ভাষা৷ রাজ্যপালের মত সাংবিধানিক পদে বসার পর এই ধরণের দলীয় মুখপাত্রের মত ব্যবহার দৃষ্টিকটু৷ রাজ্যপাল পদ থেকে সরে তাই তাঁকে কাশ্মীরের বিজেপি সভাপতি করে দেওয়া হোক৷

আরও পড়ুন : এবার হামলা মন্দিরে, পড়ে থাকা কৌটো খুলতেই বিস্ফোরণ

একদিন আগেই জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যপাল বলেন, কাশ্মীরে শান্তি ফেরাতে ১৪৪ ধারা জারি করা জরুরি৷ তাতে যদি দু চারজন মানুষের প্রাণ যায়, তাও মেনে নেওয়া যাবে৷ কিন্তু কাশ্মীরে সার্বিক শান্তি পরিস্থিতি তৈরি করা কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য৷ রাজ্যপালের এই কথারই নিন্দা করেন অধীর রঞ্জন৷ বলেন বিজেপির সুরে কথা বলা বন্ধ করুন রাজ্যপাল৷

রবিবার রাহুল গান্ধীও কাশ্মীরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন৷ তিনি বলেন, কোনও বিরোধী নেতাকে সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না কেন? একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে সরকার শাসন চালাচ্ছে কাশ্মীরে৷

এর আগে, শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয় রাহুল গান্ধী সহ ১২ জনের কংগ্রেস প্রতিনিধি দলকে৷ তাদের কাশ্মীরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি৷

আরও পড়ুন : চিন আমেরিকা থেকে অর্থ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে,মার্কিন প্রেসিডেন্ট

এর আগেও, কাশ্মীর ইস্যুতে কেন্দ্রের সমালোচনা করেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা৷ কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে পরোক্ষে জার্মানির একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি৷ অধীর বলেন তিনি জানতেন কাশ্মীর নিয়ে ভারতের এত বড় সিদ্ধান্তের পর চুপ করে বসে থাকবে না পাকিস্তান৷ তারা তাদের খোলস ছাড়তে শুরু করেছে৷ কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু৷ কাশ্মীর ইস্যুতে যে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে ভারত৷

অধীর বলেছিলেন কাশ্মীরকে রাজনৈতিক বন্দিশিবির বা কনসানট্রেশন ক্যাম্প বানিয়ে ফেলেছে কেন্দ্র৷ একের পর এক গ্রেফতারি কাশ্মীরে অশান্তি বাড়াবে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একহাত নিয়ে অধীর জানান, লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে কাশ্মীর এবার উন্নয়ন দেখবে, বুলেট নয়৷ কিন্তু এটা কি হাল কাশ্মীরের? কাশ্মীরকে শান্ত করতে গিয়ে কনসানট্রেশন ক্যাম্প বানিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দেওয়া হয়েছে ওই রাজ্যের৷ মোবাইল নেই, ইন্টারনেট পরিষেবা নেই, অমরনাথ যাত্রা বন্ধ, কি চলছে কাশ্মীরে? প্রশ্ন তুলেছিলেন অধীর৷