কলকাতা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর নজর এড়িয়ে তিনগুণ বেড়ে গিয়েছে জঙ্গি অনুপ্রবেশ৷ সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে এমনই তথ্য তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ প্রশাসন৷ সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৫-র তুলনায় ২০১৬-তে তিনগুণ হারকাত-উল-জিহাদি আল- ইসলামি(হুজি) ও জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ জঙ্গি অনুপ্রবেশ করেছে সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরায়৷ ২০১৪-র খাগরাগড় বিস্ফোরণের পরেই এ রাজ্যে জামাত জঙ্গিদের অস্তিত্ব সামনে আনে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ৷

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ঘেঁষা তিন রাজ্যের সীমান্ত অতিক্রম করে গত বছর অনুপ্রবেশ করেছে প্রায় ২০১০ জন জামাত জঙ্গি৷ এদের মধ্যে শুধু বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়েই অনুপ্রবেশ করেছে প্রায় ৭২০ জন জঙ্গি৷ বাকিরা ভারতে ঢুকেছে অসম, ত্রিপুরার সীমান্ত দিয়ে৷ যেখানে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে যথাক্রমে ৮০০ ও ৬৫৯ জন জঙ্গি অনুপ্রবেশ করেছিল৷ রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের এক অফিসার জানিয়েছেন যে, রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে৷ ইতিমধ্যেই এই রিপোর্ট চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে অসম পুলিশের কপালে৷

সূত্রের খবর, গত ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের ময়মনসিংহে একটি গোপন বৈঠক করে অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী জামাত ও জুহি জঙ্গি গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতারা৷ পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, খাগরাগড় বিস্ফোরণের পরে অনেকটাই সতর্ক এই জঙ্গি সংগঠন গুলি৷ আগে তারা সীমান্তবর্তী জেলা মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া দিয়ে প্রবেশ করত৷ কিন্তু এখন তারা বাংলাদেশের সঙ্গে অসম, ত্রিপুরার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করছে৷

- Advertisement -