কলকাতা ২৪x৭: তারিখটা ভোলা কঠিন ধূপগুড়ির বাসিন্দাদের কাছে। সন্ধে পেরিয়ে রাত নেমেছিল-টিভি জুড়ে ব্রেকিং নিউজ ছড়িয়েছিল রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে দেশের সর্বত্র। জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত হয়েছিল ধূপগুড়ি। বাম জমানায় এক আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের রক্তাক্ত কেন্দ্র এই মফস্বল শহর। হামলাকারী কেএলও জঙ্গি সংগঠনের ছায়া এখনও তেরচা হয়ে ছেয়ে থাকে এখানে।

জেলা জলপাইগুড়ি। জলঢাকা নদী ঘেরা জীবন জড়িয়ে থাকা ধূপগুড়িবাসীর কাছে ১৭ অগস্ট ভয়াবহ দিন। ২০০২ সালের এই তারিখে কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন (কেএলও) জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে ধূপগুড়িতে ৫ সিপিআইএম কর্মীকে গুলি করে মারে। জঙ্গি হামলার সেই ঘটনার পর থেকে বারে বারে উঠে এসেছে সংগঠনের মাথা জীবন সিংহের নাম। বহুবার এসেছে মৃত্যুর খবর। নিশ্চিত হননি গোয়েন্দারা। ভুটান, বাংলাদেশ, মায়ানমার জুড়ে গতিবিধি কেএলও প্রধানের তাবড় তাবড় সাগরেদরা আইনি প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্যে এসেছে, পরে নিরুদ্দেশ হয়েছে, কিন্তু সুপ্রিম কমান্ডার অধরা।

ধূপগুড়ি জঙ্গি হামলার পরই ভারত সরকারের অনুরোধে সাতটি জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান ‘অপারেশন অল ক্লিয়ার’ চালিয়েছিল ভুটান সরকার। প্রতিবেশি দেশের জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয় মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বে চলা আলফা সহ বাকি সংগঠনগুলিকে। সেই অভিযানের পর থেকেই বড়ুয়ার মতো অধরা জীবন সিংহ।

ধূপগুড়ি হামলার মতো আরও কয়েকটি নাশকতায় জড়িত কেএলও। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, মূলত আলফা জঙ্গি সংগঠনের ব্রেন চাইল্ড কেএলও। তবে তাদের লক্ষ্য বৃহত্তর কামতাপুর স্বশাসিত এলাকা। এই এলাকার ব্যাপ্তি জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, বাংলাদেশের কিছু অংশ, দার্জিলিং জেলা ও উত্তর বিহারের একাংশ। সেই লক্ষ্য নিয়েই ১৯৯৫ সালে গঠিত হয় কেএলও। আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের বাসিন্দা তামির দাস হয় সর্বাধিনায়ক। সংগঠনে তার নাম জীবন সিংহ।

এহেন জঙ্গি নেতার খোঁজে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ তৎপর। ছায়ার মতো সরে গিয়েছে জীবন সিংহ। ২০১৭ সালে ফের কেঁপে গিয়েছিল রাজ্য। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে নেপাল থেকে আসা রহস্যজনক এম্বুলেন্সের ভিতর জীবন সিংহের স্ত্রী ভারতী দাসের অচৈতন্য দেহ ঘিরে তোলপাড় পরিস্থিতি। হাসপাতালেই মৃত ঘোষণা করা হয় ভারতীকে।

কেএলও জঙ্গি সংগঠনের মহিলা শাখার নেত্রী ধরা পড়ে আইনি প্রক্রিয়ায় বেরিয়ে এসে স্বামী জীবন সিংহের মতো আত্মগোপনে ছিলেন। নেপাল থেকে তাকে নিয়ে আসা এম্বুলেন্সের সূত্র ধরেও খোঁজ মেলেনি কারোর।

২০১১ সালে বাম জমানার পতনের পর আত্মসমর্পণকারী কেএলও জঙ্গি কমান্ডারদের অনেকেই পরে জামিন পায়। এদের কেউ কেউ এখন নিরুদ্দেশ। মনে করা হয়, তারা সুপ্রিম লিভারের নির্দেশ মেনেই আত্মগোপন করেছে। পুলিশের খাতায় ‘অধরা’ জীবন সিংহ নামটা এখনও আতঙ্কের কারণ। অন্তত যতদিন না তার সম্পর্কে চরম সংবাদটি শোনাতে পারছে সরকার।

মৃত্যু নিয়ে খেলা করা জীবন নামে ভয়ঙ্কর লোকটা ভোটের হাওয়ায় মিশে থাকে আবছায়ার মতো।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।