সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : কলকাতার অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে। আর মধ্য কলকাতার এই অঞ্চল গত বছরের মেট্রো চালু হবার পর থেকেই হারিয়ে যাওয়ার তালিকায়। পারিবারিক ভাবে ঝুলনযাত্রা হবে এই মধ্য কলকাতার এই বনেদি বাড়িগুলিতে কিন্তু করোনার জন্য এই বছর যাত্রা উৎসব হবে না।

জেনে নিন মধ্য কলকাতার বিখ্যাত ঝুলনবাড়ি গুলি।

অধিকারী বাড়ি : লেবুতলার এই বাড়িটি প্রখ্যাত শিল্পী শ্রী যদু ভট্টের স্মৃতি বিজড়িত,আজও ঝুলনের কয়দিন শাস্ত্রীয় সংগীতের আসর বসে।

বলাইদাসের ঠাকুরবাড়ি : এই ঠাকুর বাড়ির অন্দরে নানা পুরোনো তৈল চিত্রের সাথে শ্রীকৃষ্ণের ঝুলন উৎসব প্রত্যক্ষ করতে পারেন।

শ্রীমন্ত ভিলা : স্থানীয় নাম চাঁদ সূর্য বাড়ি।এখানে শালীগ্রাম এর ঝুলন হয়।শ্রী কৃষ্ণের লীলা পুতুলের মাধ্যমে দেখানো হয়।ও পুরোনো প্রজেক্টরের মাধ্যমে চাঁদ -তারা-সূর্য উদয় ও অস্ত দেখানো হয় ।

রাধারমন ধরের ঠাকুরবাড়ি : ঝুলনের চারদিন চার রকম বেশে কৃষ্ণ সাজানো হয়।

দাস বাড়ি : কুলদেবতার ঝুলন অষ্টসখী সহ নানা খেলনা দিয়ে সাজানো হয়

গৌরাঙ্গ মন্দির : লেবুতলার গৌরাঙ্গ মন্দিরের ঝুলনে কৃষ্ণরাধা সহ আরো পুতুল দিয়ে রাখাল রাজা বেশে সাজানো হয়।

মানিকতলা ঝুলন বাড়ি : এখানে পর পর দুটি মন্দিরে ঝুলন হয়। প্রথমের বাড়িতে কৃষ্ণ রাধা ও শালীগ্রামের ঝুলনবেশ হয়।দ্বিতীয় মন্দিরের প্রাঙ্গনে শ্রী কৃষ্ণলীলা পুতুলের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

রামদুলাল নিবাস : এই বাড়ি ছাতুবাবু লাতুবাবুর বাড়ি নামে পরিচিত।ও কলকাতার বিখ্যাত বনেদি দূর্গা পুজোর একটি হলো এই বাড়ি।এখানে শালীগ্রামের ঝুলন হয়।চারদিন ব্যাপী কীর্তনের আসর বসে চাঁদনী নাটমন্দিরে।

ঝুলন পূর্ণিমা হল শ্রীকৃষ্ণের অনুগামীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। অমাবস্যায় পরের একাদশী থেকে আরম্ভ করে শ্রাবনী পূর্ণিমা পর্যন্ত চলে উৎসবের সমারোহ। এটি দোল পূর্ণিমার পরবর্তী বৈষ্ণবদের বড়ো উৎসব। দোলনা সাজানো, ভক্তিমূলক গান, নাচ, সব মিলিয়ে রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার এটি একটি বিশেষ উৎসব। ভারতের এই উৎসবে দেশ-বিদেশ থেকে বহু দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে। নবদ্বীপে ঝুলন উৎসব একটি বিশেষ আকর্ষণ। বৃন্দাবন, মথুরা আর ইসকন মন্দিরে মহা সমারোহে পালিত হয় এই ঝুলন। এই উৎসব সাধারণত শ্রাবণ মাসেই হয়ে থাকে।

ঝুলনযাত্রা বা লীলা বর্ষার লীলা।ঝুলন পূর্ণিমাকে শ্রাবণী পূর্ণিমাও বলা হয়। বৃন্দাবনে রাধা-কৃষ্ণর প্রেমলীলাকে কেন্দ্র করে দ্বাপরযুগে এই ঝুলন উৎসবের সূচনা হয়েছিল।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ