জামশেদপুর: আশঙ্কিত বিজেপি। কারণ, সরযূ রায়ের মতো নেতা ও মন্ত্রী আর নেই গেরুয়া শিবিরে। নিজেই নেমে পড়েছেন নির্দল প্রার্থী হয়ে। তাও আবার মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসের বিরুদ্ধেই। এই কারণেই জামশেদপুর পূর্ব কেন্দ্রের মতো আসন আরও চমকপ্রদ। গত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপি হওয়া মুকুল রায়ের ক্যারিশ্মা। তাঁর রাজনৈতিক প্যাঁচে প্রবল ধস নামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে।

একের পর এক লোকসভা আসনে বিজেপির জয়ের পিছনে মুকুলবাবুর রাজনৈতিক মস্তিষ্ক পদ্ম বনে দোলা দিয়েছে। ঝাড়খণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী তথা বিজেপির হেভিওয়েট নেতা সরযূ রায় টিকিট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ। তিনি দল ছেড়ে ভোটে লড়ছেন। এইখানেই চিন্তায় বিজেপি। বিখ্যাত টাটা ইস্পাত কারখানার কারণে বিশ্বজোড়া প্রসিদ্ধ জামশেদপুর। রাজ্যের নির্বাচনী রণক্ষেত্রে অন্যতম হেভিওয়েট কেন্দ্র পূর্ব জামশেদপুর। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসের জয়ের পথে বড়সড় কাঁটা সরযূ রায়।

আবার জামশেদপুর পশ্চিম কেন্দ্রেও তিনি দাঁড়িয়েছেন। সরযূ রায়ের এই অবস্থানে ঝাড়খণ্ডে আলোচিত হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের নেতা মুকুল রায়। কারণ মুকুলবাবু যেমন তৃণমূলের অন্দরমহলটি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, ঠিক তেমনই ঝাড়খণ্ডে বিজেপির গোপনতম কথাটি জানেন সরযূ রায়। এদিকে বর্ষীয়ান সরযূ রায়ের আরও একটি মন্তব্য ঘিরে শাসক বিজেপির ভিতরে ছড়িয়েছে ‘ভয়’। দলত্যাগী হয়েই তিনি বলেন, একাধিক বিজেপি নেতা ও সংগঠক ইতিমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছেন। পদ্ম বনে লেগেছে আশঙ্কার দোলা।

প্রচার শুরুর আগেই নির্দল সরযূ রায়ের হুঙ্কার, সরকারের অনিয়মের একটার পর একটা কীর্তি ফাঁস করব। মাত্র ৫ শতাংশ দুর্নীতির কথা বলেছি, তাতেই আমার স্বচ্ছতাকে কালিমালিপ্ত করা হয়েছে। এখনও ৯৫ শতাংশ কথাই বাকি। রাঁচির রাজনীতিতে প্রবল আলোড় পড়েছে সরযূ রায়ের বিস্ফোরক বয়ানে। বিজেপির প্রথম সারির বাকি নেতৃত্বের গলায় উষ্মা- মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসের সঙ্গে সরযূ রায়ের বিরোধিতার ফল ভুগতে হবে। বিজেপি নেতা সরযূ রায়ের সম্পর্কে একটি চালু কথা- তিনি তিনজন মুখ্যমন্ত্রীকে জেলের দরজা দেখিয়েছেন।

এই তালিকায় পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে জড়িত অবিভক্ত বিহারের দুই মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্র (প্রয়াত) ও লালুপ্রসাদ যাদব রয়েছেন। তেমনই রয়েছেন খনি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মধু কোড়া। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে সরযূ রায়ের দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল। তারই জেরে দিল্লিতে বিজেপির বৈঠকে স্থির হয় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাবেন না সরযূ রায়। পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই হুঙ্কার দিয়ে দল ছাড়েন সরযূ। জামশেদপুর পূর্ব ও পশ্চিম কেন্দ্রে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস-আরজেডি মহাজোটের প্রার্থীও রয়েছেন।

সরযূ রায়

তবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নির্দল প্রার্থী সরযূ রায় সব প্রচারের মূলে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে লাগাতার বিঁধতে শুরু করছেন। সেই হামলায় শোরগোল ছড়িয়েছে রাজ্যের সর্বত্র। পশ্চিমবঙ্গে মুকুল রায় একার কাঁধে দায়িত্ব নিয়েই তৃণমূল কংগ্রেসকে তছনছ করেছেন। একথা ঠারে ঠোরে স্বীকার করেন অনেক বাংলার শাসক-বিরোধী দলের নেতৃত্বরা। তৃণমূল ভাঙার কারিগর মুকুল রায়ের মতো ঝাড়খণ্ডে অবতীর্ণ হয়েছেন বিজেপি ত্যাগী সরযূ রায়।