রাঁচি: ফের এক লজ্জাজনক ঘটনা ঘটল ঝাড়খন্ডে৷ শনিবার মোটরবাইক চুরির অভিযোগ এনে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়৷ মৃতের নাম শামস তবরেজ৷ বয়স-২৪৷ মঙ্গলবর সন্ধ্যায় সে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় বলে জানা যায়৷

এরপর তাকে পোলে বেঁধে সাত ঘন্টারও বেশি সময় ধরে পেটানো হয়, সেই সঙ্গে তাকে ‘জয় শ্রীরাম, জয় হনুমান’ বারবার বলতে বাধ্য করা হয়, এমনটাই অভিযোগ যুবকের পরিবারের৷ এরপর বুধবার ভোরে সে অচৈতন্য হয়ে পড়লে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ মোবাইল ফোনে উঠে আসা সেই ভিডিও ছড়িয়েও পড়েছে ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷

তবরেজের আত্মীয়রা তার যথাযোগ্য চিকিৎসার কথা বললেও পুলিশ তা কানে নেয়নি বলে অভিযোগ৷ পুলিশ এবং যারা তবরেজকে মেরেছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলেছে মৃত যুবকের পরিবার৷ পুলিশের মতে, তবরেজ অসুস্থ হয়ে যায় এবং টাটা মেইন হসপিটালে মারা যায়৷ পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷

পড়ুন: দেশ ভাঙার রাজনীতি করছেন মমতা, বিস্ফোরক কৈলাস

দুদিন আগেই জয় শ্রীরাম স্লোগান না বলায় আক্রান্ত হতে হয় এক মুসলিম যুবককে। শুক্রবার রাতের দিকে ঘটনাটি ঘটে জাতীয় রাজধানীর রোহিনি এলাকায়। আক্রান্ত ওই ব্যক্তির নাম মহমদ মোমিন। ওই দিন রাত আটটা নাগাদ রোহিনী ২০ সেক্টরের কাছে তাঁকে আক্রমণের শিকার হতে হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহম্মদ মোমিনকে দেখে রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে ডাকা হয়। গাড়িতে বেশ কয়েকজন লোক ছিল। কোনও অজানা গন্তব্য হয়তো জানতে চাওয়া হবে, এমনই মনে করেছিলেন মহম্মদ মোমিন। কিন্তু বাস্তবটা ছিল ভিন্ন। গাড়িতে থাকা তিন ব্যক্তি মহম্মদ মোমিনকে জয় শ্রীরাম স্লোগান বলতে বলে। যদিও সেই প্রস্তাবে রাজি হননি তিনি। এরপরেই শুরু হয়ে যায় গালিগালাজ। তারপরে ওই গাড়িটি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এমনই জানিয়েছেন রোহিনীর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এসডি মিশ্র।

আক্রান্ত মোমিন জানান যে, গাড়ির ভিতরে বসে থাকা ব্যক্তিরা তাঁকে ধর্মীয় স্লোগান জয় শ্রীরাম বলার জন্য চাপ দিতে থাকে। তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দিয়েই মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। যদিও অতটাও খারাপ কিছু না হলেও তিনি মারাত্মক জখম হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা করা হয়৷