ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: মহারাষ্ট্রের পর ঝাড়খণ্ডেও বড়সড় ধাক্কা খেল বিজেপি। বিজেপির ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স(এনডিএ) থেকে বেরিয়ে এল ঝাড়খণ্ডের লোক জনশক্তি পার্টি (এলজেপি)। আসন্ন বিধানসভায় ৫০টি আসনে একাই লড়বে তারা, এমনটাই এলজেপি’র তরফে জানানো হয়েছে। সামনেই ঝাড়খন্ডে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে এলজেপি’র এই সিদ্ধান্তে বিজেপি বিপাকে পড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল।

সরকার গড়ার ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই শিবসেনার সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে বিজেপির। আর এরমধ্যেই আরও বড় ধাক্কার সম্মুখীন হল বিজেপি। সদ্য নিযুক্ত এলজেপি প্রধান চিরাগ পাশোয়ান টুইট করে সাফ জানিয়ে দেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এলজেপি একাই ৫০টি আসনে লড়বে। টুইটে তিনি লেখেন, ‘ঝাড়খণ্ড নির্বাচনে শেষ সিদ্ধান্ত পার্টি হাইকম্যান্ডের নেওয়ার কথা ছিল। সবশেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে লোক জনশক্তি পার্টি ৫০টি আসনে একাই লড়বে। আজ সন্ধের মধ্যে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দেওয়া হবে।’

মহারাষ্ট্রে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে শিবসেনা প্রধান বিজেপির থেকে আড়াই বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বের পদ চান। সরকার গড়ার ক্ষেত্রে ৫০:৫০ ফর্মুলার কথাও বলেন উদ্ভব ঠাকরে কিন্তু, সে বিষয়ে কর্ণপাত করে নি বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। ফলে ক্রমশ দূরত্ব বেড়েছে শিবসেনার সঙ্গে। অন্য দিকে ঝাড়খণ্ডেও বিজেপির বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ এনেই পদ্মশিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে হেঁটেছে লোক জনশক্তি পার্টি।

সূত্রের খবর আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির থেকে ছয়টি আসন চেয়েছিল এলজেপি। কিন্তু, সে ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ করেনি বিজেপি। এরপরেও অল্প কিছু আসন চেয়ে অমিত শাহ, জে পি নাড্ডা-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠিও লেখেন চিরাগ পাসোয়ান। চিঠি পাঠান ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা রঘুবর দাসকেও। কিন্তু, সেখানেও হতাশ হতে হয়েছে এলজেপি প্রধানকে। চিঠির কোনও উত্তর পাননি তিনি। এরপরেই বিজেপির থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে একাই নির্বাচন লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এলজেপি।

লোকসভা ভোটে নিরঙ্কুশভাবে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই জোটসঙ্গী আঞ্চলিক শক্তিগুলিকে উপেক্ষা করছিল বিজেপি। নানান সময়ে এই অভিযোগই করে আসছিল বিজেপির জোটে থাকা বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলি।
মহারাষ্ট্রে শিবসেনা আর এখন ঝাড়খণ্ডের লোক জনশক্তি পার্টি। গেরুয়া শিবিরে বহুদিনের সঙ্গী দুই আঞ্চলিক দলকে হারিয়ে নির্বাচনের আগে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে বিজেপি।