রাঁচি: খবর ছড়াচ্ছে সোশ্যাল সাইটে। খবর আসছে মমতা দিদির রাজ্য-তে পার্শ্ব শিক্ষকরা নিজেদের বেতন কাঠামোয় কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ অংশ চেয়ে টানা অনশনে বসেছেন। কলকতায় চলতে থাকা পার্শ্ব শিক্ষকদের এই আন্দোলনের ছাপ পড়ছে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচনেও। অভিযোগ, ৬৩ হাজার প্যারাটিচারকে স্থায়ী করানোর উদ্যোগ মুখে বললেও কাজে দেখায়নি বিজেপি পরিচালিত রঘুবর দাসের সরকার। চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রাঁচি আগেই উত্তাল রয়েছে আন্দোলনে।

ফলে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই বিরাট পরিমান পার্শ্ব শিক্ষকদের কাছে টানতে মরিয়া রাজনৈতিক দলগুলি। এই অবস্থায় সদ্য গেরুয়া শিবির ছেড়ে আলাদা লড়তে চলা অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন বা আজসু তাদের প্রচারে অন্যতম বিষয় রেখেছে প্যারা টিচার ইস্যু। গত কয়েকটি নির্বাচনের তথ্য বলছে, ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলা ও ভোট প্রাপ্তির হার পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে আজসু। তারাই বিজেপির জোট ছেড়ে আলাদা লড়াই করায় ছেটনাগপুরের বিধানসভাগুলিতে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে বিজেপি।

প্রচারে নেমে আজসু সংগঠনের কেন্দ্রীয় অধ্যাক্ষ সুদেশ মাহাতোর সাফ কথা, ক্ষমতায় এলে প্যারা টিচারদের হক পূরণ করা হবে। লোহারদাগা সহ একাধিক জনসভায় আজসু প্রধানের দাবিতে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য়। আজসু নেতা সুদেশ মাহাতো বলেছেন, আমাদের প্রাক্তন জোট শরিক বিজেপি রাম মন্দির ও ৩৭০ ধারা ইস্যু-তে নির্বাচন করে। ঝাড়খণ্ডবাসীর জন্য তাদের কোনও স্থানীয় ইস্যু বড় করে গুরুত্ব পায়নি। আর আজসু সবসময় স্থানীয় ইস্যু-কে গুরুত্ব দেয়। ঝাড়খণ্ডের ৬৩ হাজার পার্শ্ব শিক্ষকদের আন্দোল নিয়ে চিন্তায় রাঁচির বিজেপি ভোট ম্যানেজাররা। তাঁরা মনে করছেন আজসু জোট ছেড়ে দেওয়ায় তৈরি হয়েছে উপরি সমস্য়া।

বাংলায় পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলন

তাৎপর্যপূর্ণ পরিসংখ্যান- নির্বাচনে আজসুর প্রার্থী তালিকায় ৭৪ % হলেন যুব সম্প্রদায়ের। ৫৫ % যুব প্রার্থী রয়েছেন কংগ্রেসের। এরপরেই আসছে ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চা বা জেভিএমের ৪১%, বিজেপির ৩৪ %ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার বা জেএমএমের ২১ % যুব প্রার্থীরা। বিরোধী মহাজোট অর্থাৎ জেএমএম- কংগ্রেস-আরজেডি একযোগে সরকারের বিরুদ্ধে কর্ম সংকোচন ও বেকারত্বের হার বৃদ্ধিকেই হাতিয়ার করেছে।

তবে প্রথম দফার নির্বাচনী প্রচারে ডাল্টনগঞ্জে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সরকার উন্নয়নের কারিগর। পূর্বতন সরকার কিছুই করেনি। আর রাজধানী রাঁচির রাজনীতিতে ঘুরপাক খাচ্ছে জোট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া আজসুর প্যারা টিচারদের প্রচারে প্রাধান্য দেওয়া। বিজেপির দাবি, ফের সরকার হলে পার্শ্ব শিক্ষকদের সমস্যা সমাধান হবে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ