জামশেদপুর: নির্বাচনী রঙে ভরপুর ঝাড়খন্ড। প্রচারে বিজেপির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছে বিরোধী মহাজোটের জেএমএম-কংগ্রেস-আরজেডি। আর এসবের মাঝে সজারুর কাঁটার মতো তীক্ষ্ণ ফলা নিয়ে হুঙ্কার ছাড়ছেন সরযূ রায়।

টিকিট না পেয়ে বিজেপি ছেড়ে দেওয়া প্রবীণ রাজনীতিক কে দেখে ঢোঁক গিলছেন তাবড় তাবড় বিজেপি নেতৃত্ব।
গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে খোদ সরযূ রায় লড়াই করছেন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসের বিরুদ্ধে। সব মিলে পূর্ব জামশেদপুর কেন্দ্র রাজ্যে সর্বাধিক আলোচিত বিধানসভা।

রাজনৈতিক মহলে আলোচনা- এই কেন্দ্রে লড়াইটা হচ্ছে ‘অফিশিয়াল’ বিজেপি বনাম ‘আন অফিসিয়াল’ বিজেপির মধ্যে। সরযূ রায় বিজেপির অন্দরমহলটি এমন জানেন যে তাঁকে রোখা কঠিন হতে পারে।

রাজ্যে ৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফার ভোট। আর এই পর্বেই পূর্ব জামশেদপুর থেকে বিজেপির প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস।

মঙ্গলবার এই পরিস্থিতিতে জামশেদপুরে জনসভা থেকে ফের একবার রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনে জনগণের উন্নয়নের পথকে সুগম করার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর জনসভায় চোখে পড়ার মতো ভিড় ছিল।

মোদী বলেন, বিরোধীদের মহাজোট তাদের অবসরকালীন অবস্থান। এই ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জেএমএম-কংগ্রেস আরজেডি-কে প্রায় বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছেন। এতেই চাঙ্গা হয়ে গিয়েছে বিজেপি শিবির।

তবে এর পরেও আলোচনা, যেভাবে বিজেপি ছেড়ে আসা সরযূ রায় নির্দল হয়ে লড়াই করতে নেমেছেন তাতে চিন্তা আছে। কারণ তাঁর মতো ঝাড়খণ্ডের রাজনীতির কূটকৌশলী তেমন নেই। প্রতারে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চোখা চোখা মন্তব্য করছেন সরযূ।

ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে সরযূ রায়ের অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের একদা তৃণমূল কংগ্রেসের মূল সংগঠক মুকুল রায়ের মতো। তিনিও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম চিন্তার কারণ।

মুকুলবাবুর ক্রমাগত ভাঙানোর খেলায় গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের নামে। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে ধাক্কা দিয়েছে।

আলোচনায় উঠে আসছে ঝাড়খণ্ডে বিজেপি-কে ভাঙ্গানোর আসল কাজটি শুরু করেননি সরযূ রায়। তবে তার আগেই বেশকিছু নেতা বিজেপি ছেড়েছেন।

এদিকে সরযূ রায়ের হুমকি,এখনো মাত্র ৫% দুর্নীতির কথা প্রকাশ করেছি বাকি আছে আরো ৯৫%। এর পরে বিজেপি রীতিমতো চিন্তিত।

সরযূ রায় এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যাঁর চাপে দুর্নীতির মামলায় অবিভক্ত বিহারের দুই মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্র লালু প্রসাদ যাদব ও পরে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী মধু কোড়ার জেল হয়। লালু বর্তমানে রাঁচিতে বন্দি। তাঁর চিকিৎসা চলছে রিমস হাসপাতালে।

তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, প্রধানমন্ত্রী মোদী বা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের জনসভায় কোনোভাবেই বিদ্রোহী নেতা সরযূ রায়ের প্রসঙ্গ আসেনি। সেটাই রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।