রাঁচি: শীতের হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় গরমাগরম দুটি প্রশ্ন। সেটা নিয়েই ঝাড়খণ্ড তৈরি হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য। আগামী ৩০ নভেম্বর শুরু ভোট। পাঁচটি পর্বের এই নির্বাচনে রাজ্যের ৮১টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটাররা তাঁদের রায় জানিয়ে দেবেন। নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ সরকার চালানো বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ আর বিরোধী কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হওয়া ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, আরজেডি দলের মহাজোট।

নির্বাচনের উত্তাপ যত বাড়ছে ততই ঝাড়খণ্ড সহ জাতীয় রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে রাম মন্দির গঠনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের লাভ কতটা বিজেপি নিজেদের দিকে আনতে পারবে। অযোধ্যায় রাম মন্দির গঠনের ঐতিহাসিক মামলার ততোধিক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ের পরেই রাজনৈতিক শক্তির পরীক্ষা দিতে বিজেপিকে নামতে হবে ঝাড়খণ্ডেই। রাজ্যটি ধরে রাখতে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাবে গেরুয়া সংগঠনগুলি। আর প্রতিপক্ষ মহাজোটের জেএমএম-কংগ্রেস-আরজেডি তৈরি হচ্ছে বাধা দিতে।

ঝাড়খণ্ডের নির্বাচনের আগেই মহারাষ্ট্র্রে বিধানসভা ভোটে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। বৃহত্তম দল হলেও সরকার গঠনের মতো বিধায়ক না থাকা ও জোট শরিক শিব সেনার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে বাদানুবাদের জেরে ভাঙন ধরেছে দুই হিন্দুত্ব-জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলের মধ্যে। আরব সাগর তীরে আচমকা পুরনো বন্ধু বিজেপির সঙ্গে মনোমালিন্যের ধাক্কায় জোট ছাড়ার প্রভাবটি এসে পড়ছে জঙ্গল-পাহাড়-খনি-শিল্প সমৃদ্ধ ঝাড়খণ্ডে। সর্বশেষ হিসেবে, এনডিএ শক্তির ভাঙনে এই রাজ্যেও চিন্তিত বিজেপি। অন্যতম আরও এক শরিক লোক জনশক্তি পার্টি (লোজপা) সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে।

এছাড়াও আঞ্চলিক শক্তি ও বিভিন্ন বাম দলগুলির ভোট কাটাকাটির লড়াইয়ের ফল কোনদিকে সুইং করবে তা নিয়েই চলছে রাঁচির রাজনীতিতে অঙ্ক কষার পালা। পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া হওয়ায় ঝাড়খণ্ডে বাঙালিদের সংখ্যা বেশি। তাদের মধ্যে বাংলার রাজনীতি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে দুই রাজ্যের সীমান্তে থাকা বিধানসভায়। তবে এসব ছাড়িয়ে বিহার কেটে তৈরি হওয়ার ২০ বছরের মাথায় ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক সমীকরণে মূল লড়াইটা সেই এনডিএ বনাম মহাজোট। গত লোকসভা বিধানসভা নির্বাচনে বিরাট ধাক্কা খায় জেএমএম, কংগ্রেস। ক্ষমতায় আসে বিজেপি। তারপর থেকে উপনির্বাচনগুলিতে বিজেপি ধাক্কা খেয়েছে।

সেখানেই স্পষ্ট হয়েছিল মহাজোটের সম্ভাবনা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাই সুযোগটি ব্যবহার করতে হাতে হাত মিলিয়ে নেয় কংগ্রেস ও জেএমএম। পরিস্থিতি বুঝে যোগ দেয় আরজেডি। আর এনডিএ শিবিরের আসন বন্টনের বীতশ্রদ্ধ হয়ে জোট ছেড়ে আলাদা লড়াইয়ের পথে শরিকরা। অন্যতম আরও এক শরিক অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সঙ্গেও চলছে তীব্র মন কষাকষির পালা। সংগঠন ভোট ব্যাংক দেখে যেনতেন প্রকারে তাদের সঙ্গে নিতে মরিয়া বিজেপি।

জোট ঘোঁটের এই রাজনীতির মধ্যে লক্ষণীয় গত বিধানসভা নির্বাচনের হিসেব। ৮১টি আসনের মধ্যে ৪৪টি গিয়েছিল এনডিএ অনুকূলে। আর বিরোধী শিবিরে ছিল ২২টি আসন। তার মধ্যে একা জেএমএমের দখলে ১৬টি। এবারে বিজেপির ফলাফল আটকে রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলির সাফল্যের উপরেই। তবে তারই মধ্যে বড় প্রশ্ন রাম মন্দির নাকি কর্মহীনতার ইস্যু কোনটা প্রভাব ফেলবে বেশি। বিজেপির অ্যাসিড টেস্ট এখানেই। লড়াইয়ের দুই প্রধান মুখ মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা জেএমএম প্রধান হেমন্ত সোরেন।