ফাইল ছবি৷

বোকারো; পাঁচ দফায় ভোটে মাত্র এক দফায় ভোট হয়েছে ঝাড়খন্ডে। গত ৩০ নভেম্বর প্রথম দফার নির্বাচনে ১৩টি আসনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফার ভোট। মোট ৫ দফায় নির্বাচন হবে রাজ্যে। ঝাড়খণ্ড বিধানসভার মোট আসন ৮১টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৪১টি আসনের দরকার। মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস। তবে জোটসঙ্গী আজসু (অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন) এবার আলাদা প্রার্থী দিয়েছে।

একইভাবে এনডিএ শরিক এলজেপি ও শিবসেনা আলাদা লড়াই করছে। ফলে লড়াই এবার ঝাড়খন্ডে বেশ হাড্ডাহাড্ডি। আর এরই মধ্যে ইস্তফা দিয়ে বসলেন ঝাড়খণ্ড বিজেপির মুখপাত্র প্রবীণ প্রভাকর। ইস্তফা দেওয়ার পরেই দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন প্রবীন। তাঁর মতে, দলের আত্মবিশ্লেষণ প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যে চরম অস্বস্তিতে বিজেপি শিবির।

প্রবীণ প্রভাকর বিজেপি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরেই ন্যাশানাল পিপলস পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, নালা কেন্দ্র থেকে তিনি এনপিপি’র হয়ে লড়াই করবেন। ঝাড়খন্ড বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কার্যত একের পর এক মন্তব্য করতে থাকেন প্রবীণ। যাতে চরম অস্বস্তিতে পড়ে যায় বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। কার্যত অসন্তোষ থেকেই দল থেকে তিনি ইস্তফা দেন বলে জানা যায়।

অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আজসু) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রবীণ প্রভাকর পাঁচ বছর আগে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৪-এর নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে একজোট হয়ে লড়েছিল আজসু। এ বার অবশ্য তারা আলাদা লড়ছে। প্রভাকর জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি প্রধান তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে আমরা অনেক কিছুই শিখেছি। কিন্তু ঝাড়খণ্ডে বিজেপির কিছু আত্মবিশ্লেষণ দরকার।

শুধু তাই নয়, প্রবীন এই নেতা জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ডকে আলাদা রাজ্য হিসাবে গড়ে তোলার ব্যাপারে আমি আমার সব কিছু উজাড় করে দিয়েছি। আর এর উন্নয়নের জন্য আমি সারা জীবন লড়াই করে যাব। উল্লেখ্য, ২০ ডিসেম্বর ঝাড়খণ্ড ভোটের পঞ্চম তথা শেষ দফায় নালা কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। আর সেই কেন্দ্রে বিজেপির বিরুদ্ধে তিনিই প্রধান মুখ। ফলে সেখানে লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডি হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে এনপিপি-কে অষ্টম দল হিসাবে জাতীয় রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার পি এ সাংমা ২০১৩ সালে এনপিপি প্রতিষ্ঠা করেন।