স্টাফ রিপোর্টার, ঝাড়গ্রাম: গত ২ দিন ধরে কয়েক হাজার পঙ্গপাল জাতীয় পতঙ্গ হানা দিয়েছে বাঁকুড়ার শাল জঙ্গলে। এবার এই পঙ্গপালকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়াল ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল ব্লকের জোড়াশাল গ্রামে।পঙ্গপালের মতো পোকা দেখা যাওয়ায় চিন্তিত গ্রামবাসীরা। এক ব্যক্তির চাষজমিতে ও শাল গাছে দেখা মিলেছে ওই সব পতঙ্গের। বুধবার সকাল থেকেই এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ওই প্রাণীটি পঙ্গপাল বলে জানিয়েছে বন দফতর।

তবে জেলা প্রশাসন এখনও স্পষ্ট ভাবে ওই প্রাণীর পরিচয় জানাতে পারেনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাঁকরাইল ব্লকের জোড়াশাল গ্রামের বাসিন্দা অজয় দে গত চার-পাঁচদিন ধরে নিজের সব্জি বাগানে পোকাগুলিকে দেখতে পান। তাঁর বাড়ির কাছে চাষ করা লাউ, কুমড়ো, লঙ্কা, পুঁই গাছের ওপরে পোকাগুলিকে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। শালজঙ্গলেও এই পোকাগুলিকে দেখতে পাওয়া গিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, পোকাগুলিকে দেখার পর থেকেই গাছগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। খড়্গপুরের বন দফতরের এক অফিসার জানিয়েছেন, “এগুলো পঙ্গপাল, তবে অন্য ধরনের। উত্তর-পশ্চিম ভারতের যে ধরনের পঙ্গপালের দেখা মিলেছে এগুলি সেই ধরনের পঙ্গপাল নয়। আকারে ছোট। এরা সাধারণত ফসলের ক্ষতি করে।” তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে কীটনাশক প্রয়োগ করা হবে।

কিন্তু ঝাড়গ্রাম জেলা কৃষি দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর মানস রঞ্জন প্রধানের দাবি, “আমাদের জেলায় পঙ্গপালের কোনও খবর নেই। রাজ্য থেকে এখনও পর্যন্ত এই সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দেশও আসেনি। জমিতে কীট-পতঙ্গ থাকেই। তবে আমরা খবর নিয়ে দেখব।” সপ্তাহ দুই আগে পশ্চিমবঙ্গে আমফানের জেরে জেলায় চাষবাসের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বোরো ধান-সহ সবজির খেত কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে। তার উপরে পঙ্গপালের দল এমন হামলা শুরু করলে সমূহ ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কায় কাঁটা কৃষকরা।

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহেই বাঁকুড়ার রাধানগর লাগোয়া লখেশোল শালবাগান এলাকার বাসিন্দারা দেখেন, স্থানীয় শাল জঙ্গলে হানা দিয়েছে একদল পঙ্গপাল সদৃশ পতঙ্গ। জঙ্গলে হানা দেওয়া সেই পতঙ্গগুলি সংখ্যায় প্রায় কয়েক হাজার। নিমেষে কাঁচা শালপাতা খেয়ে ফেলছে সেই পতঙ্গগুলি।

রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশে হামালা হানা দিয়ে ব্যাপক ফসলের ক্ষয়ক্ষতি করছে পঙ্গপালের দল। এমনকি তারা ঝাড়খন্ড পর্যন্ত চলে এসেছে বলেও শোনা যাচ্ছে। এবার ঝাড়গ্রামের জোড়াশাল গ্রামে সেই পঙ্গপালের দলই ঢুকে পড়ল কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হচ্ছে কৃষি দফতরের দাবিতে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প