নয়াদিল্লি: প্রবল বৃষ্টিতে অটো থেকে শুরু করে ট্যাক্সি চালকরা তাদের মর্জি মতো ভাড়া হাঁকান৷ অভিযোগ ওঠে, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে তিন থেকে পাঁচগুণ ভাড়া আদায়ের৷ একই প্রবণতা তৈরি হয়েছে উড়ানের ক্ষেত্রে৷ জেট এয়ারওয়েজ যখন তীব্র আর্থিক সঙ্কট ভুগছে সেই সময় অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলি রকেটের গতিতে টিকিটের দাম বাড়িয়ে চলেছে৷ আর তার মাশুন গুণছেন সেই যাত্রীরা৷

সোমবার সকালে অনলাইনে মুম্বই থেকে দিল্লি যাওয়ার টিকিটের দাম উঠেছে ৩২ হাজার টাকা৷ এটা শুধু যাওয়ার ভাড়া৷ অনলাইনে চোখ বুলিয়ে দেখা গিয়েছে, এই সপ্তাহে মুম্বই-দিল্লি টিকিটের দাম এই অংকেই ঘোরাফেরা করছে৷

সংবাদসংস্থা এএনআইকে উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়া টিভি এক যাত্রীর বক্তব্য তুলে ধরেছে৷ বিপিন সিং নামে ওই যাত্রী জানান, গো-এয়ার এয়ারলাইন্সে এই রুটে টিকিট কাটতে চড়া দাম দিতে হয়েছে৷ বলেন, ‘‘আজ সকালে মুম্বই-দিল্লি রুটের বিমান টিকিট কিনি৷ দাম পড়ে ২৫ হাজার টাকা৷ জেটের উড়ান বাতিল হয়ে যাওয়ায় মুম্বই এয়ারপোর্টে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়৷’’

এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জেটের জন্য৷ চরম আর্থিক সঙ্কটে ভোগা জেটের একের পর এক উড়ান বাতিল হচ্ছে৷ আগে যেখানে প্রতিদিন আকাশে ৪৫০টি জেটের বিমান উড়ত এখন তা নেমে এসেছে ৬-৭টিতে৷ মাথায় বিপুল ঝণের বোঝা, তার উপর মাসের পর মাস কর্মীদের বেতন বকেয়া জেটের পরিস্থিতিকে আরও সঙ্গীন করে তুলছে৷ চার মাস হতে চলল বেতন পাননি তারা৷ জেট যাতে ঘুরে দাঁড়ায় তার জন্য স্টেট ব্যাংকের কাছে অর্থসাহায্য চাওয়া হয়েছে৷ অপরদিকে চাকরি রক্ষায় ২০ হাজার কর্মী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বারস্থ হয়েছেন৷

প্রসঙ্গত পাঁচ বছর একই রকম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছিল জেট৷ সেই সময় সংস্থাকে বাঁচাতে জেট এর ২৪ শতাংশ অংশীদারিত্ব এতিহাদকে দু’হাজার কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়৷ তবে এবার সঙ্কট আরও তীব্র৷