সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : ফের দানা বাঁধছে বিপ্লব। কলকাতা থেকে অদূরেই সেই বিপ্লবের আঁচ স্পষ্ট। এই বিল্পব , আন্দোলন সবকিছুই পরিবেশ এবং গাছ বাঁচানোকে কেন্দ্র করে। আন্দোলনের উৎসস্থল আবারও সেই যশোর রোড। যে যশোর রোড থেকে বেশ কিছু বছর আগে শুরু হিয়েছিল গাছ বাঁচাও আন্দোলন। বিগত কয়েক বছরে অনেক আন্দোলনের পরেও বেশ কিছু পুরনো গাছ কাটা পড়েছে। এর বিরুদ্ধেই আবারও ৫ জুন পরিবেশ দিবসের দিন আন্দোলনে নামছে ‘যশোর রোড গাছ বাঁচাও কমিটি’।

‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস দিচ্ছে ডাক, যশোর রোডের গাছ হেরিটেজ স্বীকৃতি পাক’ দাবি রেখে ‘যশোর রোডের গাছ বাঁচাও
ডাক এসেছে পা মেলাও’ এই স্লোগান দিয়ে পথে নামবে ‘যশোর রোড গাছ বাঁচাও কমিটির স্লোগান। বুধবার ৫ জুন, বেলা ৩টে, বনগাঁ স্টেশন থেকে মিছিল আয়োজন করা হয়েছে। সেখান থেকেই আন্দোলনের পথে নামবে প্রকৃতিপ্রেমীরা। সংগঠনটি, যশোর রোডের গাছ আন্দোলনকে আবার শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে তাঁরা। প্রসঙ্গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে যশোর রোডের গাছ বাঁচানোর আন্দোলন চলছে।

প্রথম দিকে এপিডিআর হাতে গোনা কয়েকজন মিলে এই আন্দোলন শুরু করেছিল। এলাকায় এলাকায় পোস্টারিং, লিফলেটিং, জনপ্রতিনিধিদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরা অথবা ট‍্যাবলো নিয়ে সমগ্র যশোর রোড জুড়ে প্রচার চালানো হয়েছিল। এরপরে অনেক কিছু পরিবর্তনের মাঝে গাছ প্রেমীদের দল মানুষের সামনে আনে যশোর রোডের বহু পুরনো গাছগুলির করুন দশা। বেআইনি ভাবে যশোর রোডের গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে তাদের পক্ষ থেকে।

আন্দোলন বড় আকার ধারন করে ২০১৭ সালে। বনগাঁ এক নম্বর রেলে গেটে গাছের গায়ে কোপ পড়ে। রিপন আর্য নামে এক প্রকৃতি প্রেমী সোশ্যাল মাধ্যমে পোস্ট করে। সেই পোষ্টেই সারা মিলতে শুরু করে। আন্দোলনের প্রথম দিনেই গাছ কাটা বন্ধ রাখতে সক্ষম হয়য় আন্দোলনকারীরা। এই খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। বহু প্রকৃতি প্রেমী এসে যোগদান করতে শুরু করে এই আন্দোলনে। দ্বিতীয় দিনে বিশাল জমায়েত, যশোর রোডের আন্দোলন প্রান পেয়েছিল। গাছ কাটা বন্ধ করার আর্জি নিয়ে আন্দোলনকারীরা ছুটে যায় কলকাতা হাইকোর্টে। টালবাহানার পর কোর্ট গাছ কাটার উপর স্থগিতাদেশ দেয়। এরপরেই মানুষের বিশাল সমর্থন নিয়ে তৈরি হয় এই “যশোর রোড গাছ বাঁচাও কমিটি”। এই কমিটির সদস্যরা আরও বড় আন্দোলনের ডাক দিয়ে পথে নামছেন।