পাটনা: বেশ চলছিল নির্বাচনী রাজনৈতিক কর্মশালা৷ উপস্থিত ছিলেন বিহারের এনডিএ জোটের তিন প্রধান শরিকের নেতারা৷ সেখানেই লাগল গণ্ডগোল৷ ইস্যু রাম মন্দির তৈরি৷ সেই ইস্যুকে ঘিরেই শ্রী রামের জন্মদিনে সংঘর্ষে জড়ালেন বিজেপি ও জেডিইউ কর্মীরা৷ ঘটনাস্থল হাজিপুর৷ বিষয়টি ঘিরে উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে বিহারের রাজনীতি৷

বিজেপি তার নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে৷ তাতে রাম মন্দির তৈরির কথা বলা হয়েছে৷ মনে করা হচ্ছে, বিহারে তাদের প্রধান শরিক দল জনতা দল ইউনাইটেড এই ইস্যুর বিরোধিতা করতে পারে৷ তারা এখনও ইশতেহার প্রকাশ করেনি৷ মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের অবস্থান নিয়েই চলছে জল্পনা৷

হাজিপুরের নির্বাচনী কর্মীসভায় তিন এনডিএ শরিক দলের বৈঠকে উঠে এল সেই বিতর্কিত রাম মন্দির ইস্যু৷ সভা চলাকালীন জেডিইউ নেতা সঞ্জয় বর্মা রামমন্দির নিয়ে কিছু বলতেই বিজেপির কর্মী সমর্থকরা রে রে করে ওঠেন৷ তারপর শুরু হয় বিক্ষোভ৷ এর পরেই পাল্টা তেড়ে যান জেডিইউ কর্মীরা৷ শুরু হয় হাতাহাতি৷ নেতাদের লক্ষ্য করে টেবিল-চেয়ার ছুঁড়ে মারা হয়৷ ক্রমে তা বড় আকার নেয়৷

রাম মন্দির ইস্যুতে নীতীশ কুমারের অবস্থান বিজেপির বিরোধী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷ তবুও তিনি এনডিএ জোটেই রয়েছেন৷ এবং সেই জোটই লড়াই করছে৷ হাজিপুরের সংঘর্ষ রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে৷

গত লোকসভা নির্বাচনে জেডিইউ হঠাৎ এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে যায়৷ নীতীশ কুমার কোনওভাবেই তখন নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে পারেননি৷ পরে বিজেপি তথা এনডিএ ক্ষমতায় এলে নীতীশ কুমার ও আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদের মধ্যে জোট হয়৷ সেই জোট বিহারে ক্ষমতায় আসে৷ সেই জোট ভেঙে দিয়ে ফের এনডিএ শিবিরে ফিরে গিয়েছেন নীতীশ৷ গত কয়েকটি উপনির্বাচনে বিহারে অ-বিজেপি শক্তি বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে এনডিএকে৷