তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ করোনা কাঁটায় বিদ্ধ সারা দেশ। তার মধ্যেও যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন, সামাজিক দূরত্ব বজায়, সরকারী নিষেধাজ্ঞা, সর্বোপরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রাচীন ঐতিহ্য আর পরম্পরা রক্ষায় তিথি মেনে কুমারী পুজো অনুষ্ঠিত হলো জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরে৷

শ্রী শ্রী সারদা মায়ের জন্মস্থান বাঁকুড়ার পূণ্যভূমি জয়রামবাটিতে করোনা আবহের মধ্যেই ভোর ৫ টা ১৬ মিনিটে অষ্টমীর পুজো শুরু হয়। এরপর ঠিক সকাল ৯টায় শুরু হয় কুমারী পুজো। এবার জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরে কুমারী রুপে পূজিতা হলেন ৫ বছর ৩ মাসের দীপান্বিতা ভট্টাচার্য।

বিশেষ সূত্রের খবর, চতুর্থীরই দিনই কোভিড টেস্ট করে কুমারী ও তার পরিবারের সদস্যদের জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরে নিয়ে আসা হয়। সেদিন থেকেই তারা এখানেই থাকছেন।

ফি বছর জয়রামবাটির সারদা মায়ের পুরাণো বাড়ি থেকে সিংহাসনে বসিয়ে বাদ্য যন্ত্র সহযোগে শোভাযাত্রা সহকারে মঠের সন্যাসীরা কুমারীকে নিয়ে মাতৃ মন্দিরের মণ্ডপে আসেন।

সেখানেই বৈদিক মন্ত্রোচারণের মধ্য দিয়ে চলে কুমারী পুজা। জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরে ফি বছর পুজোর চার দিন অসংখ্য মানুষ হাজির হন। কুমারী পূজা উপলক্ষ্যে অষ্টমীর সকালে সেই সংখ্যা আরো কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এবার সেই সুযোগ নেই। কিন্তু চলতি করোনা পরিস্থিতির কারণে সমারোহ ও মণ্ডপ ছাড়াই নাট মন্দিরে পুজো হচ্ছে।

দর্শনার্থীদের প্রবেশের উপরেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো এলাকা জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবারে ‘কুমারী’ রুপে পূজিতা দীপান্বিতা ভট্টাচার্যের মা মনীদিপা ভট্টাচার্য বলেন, আমিও কুমারী পুজোতে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতিতে বিষয়টা একেবারে অন্যরকম।

তাদের কয়েক দিন আগেই এখানে এনে রাখা হয়েছিল, একই সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট মহারাজের উপস্থিতিতে পুজো হওয়ায় তারা খুব খুশী বলে তিনি জানান।

জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরের সহ সম্পাদক স্বামী যুগেশ্বরানন্দ মহারাজ বলেন, করোনা পরিস্থির মধ্যে যথেষ্ট সাবধানতা ও সতর্কতা মেনে পুজো হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন যথেষ্ট সহযোগীতা করছে বলেও তিনি জানান।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।