প্রসেনজিৎ চৌধুরী: দশকের পর দশক তামিল হৃদয়ে আবেগ সাগর উথালি পাথালি ঢেউয়ে দুলেছে। সেই ঢেউয়ে ডিঙা ভাসানো কিংবদন্তি রাজনীতিক-রুপোলি নায়ক নায়িকারা অতীত। সর্বশেষ করুণানিধির প্রয়াণে চর্চিত প্রজন্মের আর কেউ নেই। বহু আলোচিত জয়ললিতা-করুণানিধি যুগ পেরিয়ে ভোট যুদ্ধে তামিল সিংহাসন দখল অভিযান শুরু হলো। বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গোপসাগর তীরে রাজনীতির ‘তুফানি চমক’ ধাক্কা মারছে আসমুদ্র হিমাচলের প্রতি প্রান্তে।

তামিল ভাবাবেগ রাজনীতির ধারার প্রবর্তক ছিলেন পেরিয়ার। তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে সিএন আন্নাদুরাইয়ের দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাঘাম (ডিএমকে) দক্ষিণী ঘূর্ণিঝড় ভারতব্যাপী আলোড়ন ফেলেছিল। আন্নাদুরাই শিষ্য-শিষ্যারা অর্থাৎ এম করুণানিধি, এম জি রামচন্দ্রন, জানকী নটরাজন, জয়ললিতা অবলীলায় তামিল মসনদ থেকে আলোড়ন ফেলেছিলেন। তবে ডিএমকে ভাগ হয়। এমজি রামচন্দ্রন তৈরি করেন এআইএডিএমকে।

তামিল রাজনীতির দুই প্রধান প্রতিপক্ষের নেতারা সবাই প্রয়াত। জয়ললিতা-করুণানিধির পারস্পরিক দ্বন্দ্বের যুগ পেরিয়ে তামিলনাড়ু এখন পরবর্তী রাজনৈতিক প্রজন্মের হাতে। এই নেতৃত্বের তালিকায় ডিএমকে অর্থাৎ করুণানিধির পরিবার বেশি শক্তিশালী। তাঁর সন্তানদের মধ্যে স্ট্যালিন, আলাগিরি, কানিমোঝি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে আলোচিত। অপর দিকে এআইএডিএমকে নেত্রী জয়ললিতার (এমজি রামচন্দ্রনের উপপত্নী হিসেবে আলোচিত) উত্তরসূরী নেই দলে। বান্ধবী শশীকলাকে নিয়েই দলের অন্দরমহল দ্বিধাবিভক্ত।

জন্মসূত্রে কন্নড় হয়েও জয়ললিতা তামিল হৃদয়েশ্বরী হয়েছিলেন তাঁর ক্যারিশ্মায়। আর করুণানিধি তো শুরু থেকেই খ্যাতির চূড়ায়। চলচ্চিত্র কেন্দ্রীক তামিল রাজনীতির প্রথম সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তিনি। তাঁর সঙ্গেই রাজনীতির চূড়ান্ত উঠে আসেন সতীর্থ এমজি রামচন্দ্রন (এমজিআর),জয়ললিতা। শুরু হয় দুজনের প্রেমজ সম্পর্ক। এসব জেনেও এমজিআরের স্ত্রী তথা জনপ্রিয় নায়িকা জানকী নটরাজন ছিলেন ‘স্বামী অন্ত প্রাণ’। ১৯৮৭ সালে এমজিআর প্রয়াত হতেই এআইএডিএমকে পরিবারে লেগে যায় গৃহযুদ্ধ। স্বল্পকালীন সময়ের জন্য জয়ললিতার তখন কোণঠাসা অবস্থা। সেই সুযোগে বিরোধী গোষ্ঠী জানকী কে মুখ্যমন্ত্রী করে। এরপর নাটকীয় প্রত্যাবর্তন জয়ললিতার।

তামিলনাড়ুতে জয়ললিতা আম্মা নামে বিশেষ পরিচিত। প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে দলের করুণানিধি আন্না নামে সুপরিচিত। সেই শুরু পর্যায়ক্রমে আন্না-আম্মা লড়াই। দুর্নীতির অভিযোগে দুজনেই দুজনকে জেলের ভাত খাইয়েছেন। কে বলবে এরাই একদা দুই বন্ধু-একসঙ্গে সিনেমা নিয়ে বিস্তর আলোচনা, সংলাপ মুখস্ত করতেন। দশকের পর দশক এই আন্না-আম্মা যুগ চলেছে।

২০১৬ সালে তামিল রাজনীতির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল। প্রয়াত হন ‘কুবেরের খাজানা’ মালকিন জয়ললিতা। ২০১৮ বিদায় নিলেন করুণানিধি। ফের তামিল রাজনীতির হৃদয় নিংড়ে কান্নার রোল উঠেছিল। আশ্চর্যের বিষয় মৃত্যুর পর এই যুযুধান ব্যক্তিদের ঠিকানা সাগরতীরে গুরু আন্নাদুরাইয়ের পদতলে,আরেক সতীর্থ রামচন্দ্রনের পাশের সমাধিতে।

সেই যুগ অস্তমিত। এবার পরবর্তী সময়ের সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাডু বিজেপির কাছে অধরা। নির্বাচনের ঢাক বাজতেই বঙ্গোপসাগর তীরের দুই রাজ্যের মসনদ কি আঞ্চলিক শক্তির হাতেই থাকবে নাকি কেন্দ্রীয় শক্তির অনুকূলে যাবে সেটিও আলোচনার বিষয়। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে পশ্চিমবঙ্গ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তাহলে তামিলনাডু? সূত্রের খবর, দক্ষিণের ভোটের ফল নিয়ে ততটা আশাবাদী নয় বিজেপি। কেরলেও সিপিআইএম নেতৃত্বে চলা এলডিএফ বা কংগ্রেস নেতৃত্বে ইউডিএফের মধ্যে সরকার গড়ার সম্ভাবনা প্রবল।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।