নয়াদিল্লি:  ক্রমশ জটিল হচ্ছে লাদাখের পরিস্থিতি। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার কথা বারবার ভারতের তরফে বলা হচ্ছে। কিন্তু এরপরেই সীমান্তের ওপারে রণসজ্জা সাজাচ্ছে চিন। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার সেনা সমাবেশ করেছে বেজিং। যদিও পালটা হিসাবে ভারতও ঘুঁটি সাজাচ্ছে সীমান্তে। চিন সীমান্ত ঘেঁষে মিসাইল সিস্টেম সহ একগুচ্ছ অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র মোতায়েন করেছে ভারত।

কিন্তু যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা সমাধান করতে চায় মোদী সরকার। অন্যদিকে, শুক্রবার জানা গিয়েছে, ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এই বিষয়ে আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, জাপানকে ব্যাখ্যা দিয়েছে। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে ঠিক কী পরিস্থিতি তা জানানো হয়েছে। সীমান্ত সমস্যা সমাধানে গত এক সপ্তাহ ধরে কি আলোচনা হয়েছে তাও জানানো হয়েছে।

মার্কিন সচিব মাইক পম্পেও সীমান্তে শান্তিরক্ষায় ভারতের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ দিয়েছেন। অন্যদিকে, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাতোশি সুজুকিও জানিয়েছেন যে ভারতের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা হয়েছে। আর তাতে স্ট্যাটাস কো ভেঙে চিনের কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার বিরোধিতা করেছে জাপান।

একই সঙ্গে ভারত এবং চিনের সেনাদের মধ্যে চলমান বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশা প্রকাশ করেছে জাপান। একই সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) স্থিতাবস্থার যে কোনও পরিবর্তনের বিরুদ্ধে অবস্থান টোকিও’র। এছাড়া সীমান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ভারত সরকারের নীতির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে জাপান। জাপানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণরেখায় চিন ও ভারতের বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে টোকিওকে অবহিত করেছে দিল্লি।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চিনা সেনাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। আর এরই মধ্যে গত ১৫ জুন সোমবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আর এই সংঘর্ষে ২০ জন জওয়ান শহিদ হন। আহত হন আরও বেশ কয়েকজন। এই সংঘর্ষে চিনের অন্তত ৪৫ জন সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি।

তবে চিন সরকারিভাবে কোনও হতাহতের খবর জানায়নি। দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। লাদাখ সীমান্তের ওই উত্তেজনা নিয়ে টোকিওকে অবহিত করেছে দিল্লি। ভারতে নিযুক্ত জাপানি দূত সাতোশি সুজুকি শুক্রবার এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে ভালো আলোচনা হয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার পরিস্থিতি নিয়ে যে ব্রিফিং করেছেন তার প্রশংসা করছি।

একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ভারত সরকারের নীতিরও প্রশংসা করছি। জাপান আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশা করে। একই সঙ্গে স্থিতাবস্থা নষ্টের যেকোনও একক প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জাপানের অবস্থান।’ উল্লেখ্য, গত মাসের ওই সংঘাতের পর ভারত ও চিন একাধিকবার সেনা ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সীমান্ত থেকে সেনা সরায়নি বেজিং। যা নিয়ে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ