টোকিয়ো : মাত্র তিন দিনের বৃষ্টি। তাতেই ভাসছে এই দেশ। এমন টেকনলজিতে ভরপুর দেশ যে প্রকৃতির রোষ থেকে বাদ পড়ে না তার প্রমান মেলে ভূমিকম্প থেকে। কিন্তু এবার জাপানকে বিধস্ত করছে বন্যা।

তিন দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টির জেরে জাপানে বন্যাপরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভাসছে দক্ষিণ জাপান। ইরিমধ্যেই ৪৯ জনের মৃত্যু খবর মিলেছে। কিউশুর মূল দ্বীপে আরও বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কুমা নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়েই বইছিল। দু-কূল ভাসিয়ে উপচে পড়েছে। নদীর পাড় বরাবর বাড়িগুলোর ছাদ জল ছুঁইছুই। জলবন্দিদের উদ্ধারে সেনার সঙ্গেই নেমেছে অন্যান্য উদ্ধারকারী দল। কুমা নদীর প্রচণ্ড স্রোতে ভেসে গিয়েছে স্থানীয় একটি সেতু। এর মধ্যে নদীর ধারের এক নার্সিংহোম থেকেই ১৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। জল ডুবেই তাঁরা মারা গিয়েছেন বলে খবর। আরও ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের খোঁজ চলছে। ভূমিধসেও বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

দক্ষিণ জাপানের কুমামোটা ও কাগোশিমা অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অন্তত ১১টি জায়গায় নদীর জল ফুলেফেঁপে উঠেছে। কুমা এলাকায় সব থেকে বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছে। সূত্রের খবর, হিতোয়োশি শহরে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আশিকিতাতে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯ জনের। মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহু লোক জরুরি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে উঠেছেন।

সুত্রের খবর, অন্তত ২ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু, সমস্যা করোনা। সংক্রমণের বিস্তার রোধে আশ্রয় শিবিরে স্বাবাবিক ভাবেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরিস্থিতি নেই। বন্যার ব্যাপকতার সঙ্গে মৃত্যুও আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাঁধেকাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন উপকূলরক্ষী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। সবমিলিয়ে ৪০ হাজার উদ্ধারকারী মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী বুধবার পর্যন্ত এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে বলে সতর্ক করেছে জাপানের আবহাওয়া বিভাগ।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ