পটনা: বিহার ভোটের ‘পরীক্ষা’ সামনেই। বুধবার নির্বাচন কমিশন ‘পরীক্ষা’র দিন ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই বিহার রাজনীতির আঙিনায় পারদ চড়ল। কেউ বলল, তারা প্রস্তুত, কারও দাবি, আর একটু সময় পেলে ভালো হত। কেউ কেউ অবশ্য আরও এককাঠি সরেসের মতো দাবি করে বসল, নির্বাচন কমিশন বিহার ভোটের সঙ্গে দেশের ভোট গুলিয়ে ফেলেছে।

বুধবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নাজিম জাইদি সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দিয়েছেন, ২০১৫ সালের বিহার ভোট হতে চলেছে পাঁচ দফায়। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন পত্র জমা নেওয়া শুরু হবে। প্রথম দফার ভোট হচ্ছে ১২ অক্টোবর। পাঁচ দফার সর্বশেষ ভোটের তারিখ ৫ নভেম্বর। ভোটগণনা ৮ নভেম্বর। এবং সেদিনই ফলঘোষণা। এই ভোট নির্ঘণ্ট হাতে পেয়ে জেডিইউ নেতা শরদ যাদব বললেন, “পাঁচ দফায় বিহার ভোট বাড়াবাড়ি। আমরা তৈরি ছিলাম। বিশাল ব্যবধানে আমরাই জিতব।” নীতীশ কুমারও বললেন, “আমরা তৈরি।” যদিও শরদের উলটো দিকে দাঁড়িয়ে পাঁচ দফায় ভোট ঘোষণাকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। দলেই যেখানে এই অবস্থা, সেখানে জোটসঙ্গীর বয়ানেই বা তাল কাটবে না কেন? তাই লালুপ্রসাদ যাদবের গলাতেও নীতীশের উলটো সুর। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা বললেন, “এটা বিহারের ভোট। দেশের নয়। এত কম সময়ে সবকিছু করতে গিয়ে না ভুল হয়ে যায়।” সঙ্গে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে একহাত নিলেন বিজেপি-এনডিএ জোটকেও। বললেন, “ওদের অনেক টাকা। ভোট কিনতে পারে। আমরা তৈরি। অপেক্ষার সময় শেষ। এবার ময়দানে নেমে লড়াই করার পালা।”

বিহার রাজনীতির সমীকরণে নীতীশ-লালু জোটের মূল কাঁটা এই মুহূর্তে রামবিলাস পাসোয়ান। বিজেপির জোটসঙ্গী লোক জনশক্তি পার্টির প্রথম ও শেষ কথা রামবিলাসের মন্তব্য, “পাঁচ দফাতে ভোটই ঠিক আছে।” আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই এনডিএ আসন রফা করে ফেলবে বলে জানালেন তিনি। বিজেপির তরফে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ জানালেন, “পাঁচ দফার ভোটই আদর্শ। আমরা বহুদিন থেকেই তৈরি আছি। এনডিএ বিহারের উন্নয়ন চায়। লালু-নীতীশ-সোনিয়া চান কেবল মোদীজিকে আটকাতে। বিহারের উন্নয়ন নিয়ে তাঁরা চিন্তিত নন।” এর পর লালুকে একহাত নিয়ে রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, “লালুপ্রসাদ যাদব বলছেন, জিতন রাম মাঝি আর পাসোয়ান ডাল থেকে পড়ে যাওয়া বাঁদর। তাঁদের কেউ দলে নিচ্ছে না। জিতন রাম মাঝি ঠিকই বলেছেন, যে নিজে বাঁদর সে অন্যকেও বাঁদরই ভাবে।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ