শেখর দুবে, বেলপাহাড়ি: ঝাড়গ্রাম থেকে বেলপাহাড়ি যাওয়ার পথে একটি গ্রাম মালাবতী। জঙ্গলঘেঁষা এই গ্রামে ঝাড়গ্রাম-বেলপাহাড়ি মেন রোডের পাশে একটি ঝুপড়িতে অমল পাত্রর চায়ের দোকান। ২০১৬ সালে বেলপাহাড়ি থেকে ফেরার পথে হঠাৎই গাড়ি থামিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অমলের দোকানে গিয়ে চা খেয়েছিলেন৷ খাইয়েও ছিলেন নিজের সঙ্গে থাকা নেতা, মন্ত্রী এবং দেহরক্ষীদের।

ওই দিনটার আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের টিভিতেই দেখে এসেছেন অমল। স্বাভাবিকভাবেই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিক এই জায়গাটাতেই অন্যদের থেকে আলাদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জঙ্গলমহলের অনেক মানুষের কাছেই দিদি বড় কাছের লোক।

আরও পড়ুন: রোগী মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা এনআরএসে

২০১৬ সালের সেই দিনটার কথা কলকাতা ২৪x৭-এর সঙ্গে ভাগ করলেন অমল পাত্র, ‘‘হঠাৎ করেই বেশ কয়েকটা গাড়ি থেমে গিয়েছিল আমার দোকানের সামনে। আমি প্রথমে কিছু বুঝতে পারিনি। তারপর দেখলাম মমতা দিদি নেমে এলেন গাড়ি থেকে। আমি তো অবাক, এতবড় মানুষ। চা খেলেন আমার দোকানে। জিজ্ঞেস করলেন দোকান ঝুপড়ি কেন, কী অসুবিধে, কী পেলে সুবিধা হবে? আমাকে ১৫০০ টাকাও দিয়েছিলেন। আমি নিতে চাইনি। উনি আমার দোকানে পা রেখেছিলেন এটাই আমার কাছে বড় কথা।’’

মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের প্রয়োজনের কথা কিছু বলেছিলেন অমল? এই প্রশ্নের উত্তরে মালাবতীর ছোট চায়ের দোকানের মালিক বলেন, ‘‘হুম আমরা সবাই মিলে বলেছিলাম আমাদের মালাবতী স্কুলটাকে হাইস্কুল করার কথা। তাহলে বাচ্চাগুলোকে আর ৭-৮ কিলোমিটার দূরে পড়তে যেতে হত না। দিদি সেই সময় ফোন করে নির্দেশও দিয়েছিলেন৷’’

আরও পড়ুন: ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় মৃত কমপক্ষে ১৬

মালাবতী স্কুলটি এখনও হাইস্কুল হয়নি। বিপিএল তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও মাথার উপর ঢালাই ছাদের বাড়ি জোটেনি অমলের। তাতে কী হয়েছে? নিজের দোকানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চা খাওয়ার ছবি তুলে বাঁধিয়ে রেখেছেন অমল। সেটি সর্বক্ষণ দোকানে ঝোলানো থাকে। যার নীচে লেখা, ‘দিদির আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে, অমল পাত্রের চায়ের দোকান।’

রাখির দিনে দিদির কাছে কী চাইবেন অমল? জঙ্গলমহলের অমল পাত্রের সাফ কথা, ‘‘কী আর চাইব বলুন, আপনারা তো সবই দেখছেন। ছোট চায়ের দোকান থেকে রোজগার করে সুস্থভাবে বাঁচার চেষ্টা করছি। উনি তো আমাদের মত গরিব মানুষের দিদি, আমার অবস্থা বুঝে নিশ্চয় কিছু করবেন। তবে একটাই ইচ্ছা দিদি যদি আবার এদিকে আসেন, আমার দোকানে চা খেতে নামেন, তাহলে অবশ্যই ওঁকে রাখি পরাবো।’’

আরও পড়ুন: ৮১,০০০ কোটির প্রজেক্টে সাজানো হবে রেলের ১০০টি স্টেশন