নয়াদিল্লি: উপত্যকায় সরকার পড়ে যাওয়ার পরেই জম্মু-কাশ্মীরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি রবীন্দ্র রায়না পাচ্ছেন প্রাণের হুমকি৷ আর সেই হুমকি পাকিস্তানি জঙ্গিরা দিচ্ছে বলে সূত্রের খবর৷ জানা গিয়েছে, রাজ্যে বিজেপি-পিডিপি জোট ভেঙে যাওয়ার পর সেখানে রাজনৈতিক ক্ষেত্র বেশ উত্তপ্ত৷ এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রাজ্যপালকে দেন রবীন্দ্র রায়না৷ তিনি হুমকি ফোনের বিষয়ে জানিয়ে বলেন, গত কয়েক মাস ধরেই এই ধরনের হুমকি পাচ্ছেন তিনি৷ আর এবার করাচির একটি নম্বর থেকে হুমকি ফোনও আসে তাঁর কাছে৷

 

রবীন্দ্র রায়না আরও জানান, তিনি যখনই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কিছু বলেন তখনই কোনও না কোনও জঙ্গি সংগঠন হুমকি দিতে থাকে৷ প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ১৯জুন, জম্মু-কাশ্মীরে পিডিপির থেকে সমর্থন তুলে নেয় বিজেপি সরকার৷ যার ফলে উপত্যকায় তিন বছরের মুফতি সরকার পড়ে যায়৷ সরকার পড়ে যাওয়ার পর মেহবুবা মুফতি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন৷ অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ জম্মু-কাশ্মীরে রাজ্যপাল শাসনের অনুমতি দিয়ে দেন৷

পড়ুন: উপত্যকায় জট, মুখোমুখি বৈঠকে ভারত-পাক সেনা

প্রসঙ্গত, রমজানের মধ্যেই বর্ষীয়ান সাংবাদিক শুজাত বুখারিকে গুলি করে হত্যা, পাশাপাশি জওয়ান ঔরঙ্গজেবকে অপহরণ করে তাকেও হত্যা করে জঙ্গিরা৷ উপত্যকায় সংঘর্ষবিরতি জারি থাকাতেও কোনও প্রভাব পড়েনি৷ কমেনি পাক সেনার সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন অথবা জঙ্গিদের সন্ত্রাস৷ জম্মু ও কাশ্মীরে জোট সরকারে দলের সব বিধায়ককে গত মঙ্গলবার হঠাৎ করেই দিল্লিতে বৈঠকে ডাকেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। রাজধানীতে হাজির হতে বলা হয় তাঁদের সবাইকে। সদ্য জম্মু ও কাশ্মীরে রমজান শেষ হতেই সংঘর্ষবিরতি বা জঙ্গি দমন অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে কেন্দ্র। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি সভাপতির দলীয় মন্ত্রী, শীর্ষ নেতাদের জরুরি তলব ঘিরে তীব্র কৌতূহল, জল্পনা তৈরি হয়।

এরপরই বিজেপি ঘোষণা করে, যে তারা আর পিডিপি-র সঙ্গে থাকছে না। ঘোষণার পর, বিজেপির তরফ থেকে রাম মাধব সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, সুজাত বুখারি কিংবা ঔরঙ্গজেবকে হত্যার মত নৃশংস ঘটনার পর কেন্দ্রের পক্ষে আর সংঘর্ষ বিরতি জারি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিজেপি কাশ্মীরে শান্তি ও উন্নয়ন চায় বলেই দাবি করেছেন তিনি। তিনি বলেন, কাশ্মীরের জন্য ৮০,০০০ কোটির প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের কথা ভেবে সীমান্তে ৪০০০ বাংকার তৈরির সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।