ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: বিতর্কিত ট্যুইট করে নেটদুনিয়ার রোষানলে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর। পনেরো জন অ-মুসলিম পড়ুয়াকে পরীক্ষায় ফেল করানোর বিষয়টিকে ট্যুইটারে এনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন। এমন কাজের জন্য তাঁকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর আবরার আহমেদ বলেছেন, ১৫ জন অ-মুসলিম পড়ুয়াকে পরীক্ষায় ফেল করানোর বিষয়ে পূর্বপরিকল্পিত ছিলেন, বিশেষত যারা নাগরিকত্ব আইন বিরোধিতায় সমর্থন জানায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এই ঘটনার বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে একটি ট্যুইট করে জানানো হয়েছে, “ডঃ আরবার আহমেদ, জামিয়ার সহকারি অধ্যাপক সোশ্যাল মিডিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে ১৫ জন অমুসলিম পড়ুয়াকে ফেল করার বিষয়টি জানিয়েছেন। যা ভীষণভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরোধিতা করে পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মবিরোধি। তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা সিএএ বিরোধী মিছিল করার পর ১৫ ডিসেম্বর জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পুলিশি আক্রমণ চলে৷ পুলিশ এবং ছাত্রদের সংঘর্ষে গাড়িও জ্বলে৷ পুলিশ তার হাতের ব্যাটন এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ওই সময় প্রায় ১০০ জন ছাত্রকে আটক করা হয়েছিল৷ ওই সংঘর্ষে এক ছাত্র চোখে আঘাত পেয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে৷

কেন্দ্রের নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতার কেন্দ্রবিন্দু জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে বিশাল সংখ্যায় মানুষ জমায়েত করে যা করোনা ভাইরাস আতঙ্কে যা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জামিয়ার প্রফেসরের এমন ট্যুইটে নেট দুনিয়ায় ঝড় উঠেছে। বিতর্ক উঠেছে দেশের প্রথমসারির এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিভাবে শিক্ষকদের সাম্প্রদায়িক ব্যবহার মেনে নেওয়া হচ্ছে। এমন বিতর্কের পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বিষয়টি এবং ওই অধ্যাপককে বহিষ্কৃত করা হয়।