টনটন: বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ আসরের ক্রিকেট ম্যাচ৷ সেখানেও এমন অপেশাদারিত্ব দেখে হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক৷ তবে এ যাত্রায় সামারসেট তথা আয়োজক ইসিবি’কে বড়সড় লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিলেন চার্চ অফ ইংল্যান্ডের দায়িত্বশীল কর্মী জেমস এমারসন৷

টনটনে পাকিস্তান বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ শুরুর ঠিক অগের মুহূর্তে খোঁজ পড়ে অফিসিয়াল স্কোরারের৷ টসের আগে জানতে পারা যায় যে, দুই স্কোরারের একজন আসতে পারবেন না মাঠে৷ কারণ, তিনি নাকি জানতেনই না যে, তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই ম্যাচের৷

যখন মাথায় হাত পড়ার উপক্রম আয়োজকদের, ঠিক তখনই সামারসেট কর্তৃপক্ষের মাথায় আসে মুশকিল আসানের উপায়৷ অগত্যা আয়োজকদের তরফে দৌড় লাগানো হয় প্রেস বক্সের উদ্দেশ্যে৷ যেখানে প্রেস বক্স স্কোরারের দায়িত্ব পালণ করার কথা ছিল জেমস এমারসনের৷ রীতিমতো ধরে-বেঁধে প্রেস বক্স থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এমারসনকে এবং বসিয়ে দেওয়া হয় অফিসিয়াল স্কোরারের চেয়ারে৷

অফিসিয়াল স্কোরারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া এমারসনের নতুন কিছু নয়৷ তবে ইংল্যান্ড জোড়া তাঁর খ্যাতি প্রেস বক্স স্কোরার হিসাবেই৷ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ ও পরিসংখ্যানের দক্ষতা তাঁকে বেশ জনপ্রিয় করে তুলেছে প্রেস বক্সে৷ সময়ে সময়ে মিডিয়া স্কোরার হিসাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর৷ এই ম্যাচেও সেই ভূমিকাতেই অবতীর্ণ হওয়ার কথা ছিল এমারসনের৷ তবে এ যাত্রায় আয়োজকদের মান রক্ষার স্বার্থে তাঁকে আরও বড়সড় দায়িত্ব পালণ করতে হয়৷

এর আগে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দু’টি টেস্ট ও একটি ওয়ান ডে ম্যাচে অফিসিয়াল স্কোরারের দায়িত্ব পালণ করেছেন এমারসন৷ যখন ল্যাঙ্কাশায়ারের স্কোরার কাউন্টি ম্যাচে ব্যস্ত ছিলেন, তখন এমারসন দায়িত্ব সামলেছিলেন নিষ্ঠার সঙ্গে৷ দু’টি টেস্টের একটিতে তো অসামান্য ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি৷ নিজের স্কোরবই চালু রাখার পাশাপাশি অসুস্থ সহ-স্কোরারের স্কোর বইও পরিচালনা করেছিলেন এমারসন৷

টনটনে অফিসিয়াল স্কোরারের ভূমিকা পালণ করার পাশাপাশি মিডিয়াকেও ক্রমাগত আপডেট দিয়ে গিয়েছেন তিনি, যেটা ছিল তাঁর প্রাথমিক কর্তব্য৷ অর্থাৎ পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে দ্বৈত ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এমারসন এবং এর পরেও একটিও বল এড়ায়নি তার নজরদারি থেকে৷

ম্যাচের পর সামারসেটের চিফ অপারেটিং অফিসার স্যালি ডোনোঘুই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন এমারসনের৷ তিনি বলেন, ‘এমন আপৎকালীন পরিস্থিতিতে এমারসন অসাধারণ কাজ করেছেন৷ একেবারে শেষ মুহূর্তে ওঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল৷ তবে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলেছেন এবং দায়িত্ব উপভোগ করেছেন এমারসন৷’

এমন পড়ে পাওয়া সুযোগে বিশ্বকাপের ম্যাচে অফিসিয়াল স্কোরারের ভূমিকা পালণ করে খুশি এমারসনও৷ ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করেছি৷ এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কাজ করাটা গর্বের বিষয়৷ আশা করি এটা আমার ভাবমূর্তীকে আলাদা মাত্রা দেবে৷’