সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ওঁদের এবার প্রথম জামাইষষ্ঠী। কিন্তু অস্বচ্ছল পরিবারগুলির সাধ থাকলেও বাধ সেধেছে দীর্ঘ লকডাউন। দীর্ঘদিন ধরে কাজকর্ম না থাকায় রোজগার নেই। সেখানে নতুন মেয়ে জামাই কীভাবে করে মহানন্দে জামাইষষ্ঠীর আশা? এগিয়ে এলেন পরিমল দে।

মানুষটি প্রায়ই সামাজিক কাজ করেন। এই শহরেই রয়েছে তাঁর তৈরি থিম পার্ক। সেই পরিমল দে এগিয়ে এলেন সাধ্যের অভাবে প্রথম জামাই ষষ্ঠী থেকে বঞ্চিত সদ্যবিবাহিতদের সাধ পূরণ করতে। বাবার মতো পালন করলেন সমস্ত দায়িত্ব। আগের দিন থেকে নিয়েছিলেন তোড়জোড়। খুঁজে নিয়েছিলেন এমন দশ জোড়াকে। তারপর জামাই বরণ করতে তিনি পৌঁছে গেলেন পেল্লাই সাইজের মাছ হাতে।

তারপর জামাইষষ্ঠীর আয়োজনে ছিল মাছ পাঁচ রকম ফল চাল ডাল পায়েস এর চাল দুধ পাঁচ রকম ভাজা মিষ্টি। একবারে নিষ্ঠা ভরে জামাই ষষ্ঠী হল রনি, প্রীতমদের। শুধু এতেই থামলেন না। ৭৩ বছরের ‘দায়গ্রস্ত’ পিতা ভুলে যান নি করোনাকে। ষষ্ঠী পালন করলেন সম্পূর্ণ গ্লাভস , মাস্ক পরে। মেয়ে জামাইকেও দিলেন স্যানিটাইজার, মাস্ক। এমন জামাই ষষ্ঠীতে যেমন খুশি জামাই, তেমনই খুশি আসল শ্বশুররাও.

যারা ইচ্ছা থাকলেও লোকডাউনের জেরে অর্থের অভাবে মেয়ের প্রথম জামাই ষষ্ঠীটাই করতে পারবেন না বলে ভেবেছিলেন। এই যেমন বিদ্যাসাগর কলোনীর রনি। বৈশাখির সঙ্গে ওঁর বিয়ে হয়েছে মাস ছয়েক আগে। শ্বশুর বাড়ির অবস্থা একদমই সচ্ছল নয়।

বৈশাখির বাবা অজয় ঘোষের মনটা খারাপ ছিল। পরিমলবাবুর উদ্যোগে হাজারও সমস্যার মধ্যেও মনটা আজ একটু ভালো। জামাই রনি জানালেন, ‘এই উদ্যোগে সম্পূর্ণ অন্যরকম। এই ভালোলাগাটাও একটু অন্যরকম। ভাবিনি এমন ভাবে কেউ ভাবতে পারে। আমার প্রথম জামাইষষ্ঠীটা সত্যিই মনে রাখার মতো হয়ে থাকবে। ‘ প্রীতম দাশগুপ্তের বাড়ি রায়পুরে। ওরও জামাই ষষ্ঠী পালন হল মহাসমারোহে।

জানালেন, ‘এটা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমাদেরতো ভালোই লেগেছে। কিন্তু এটা একটা অন্যরকম বার্তাবহও বটে’। এমন দশটি পরিবারের জামাই ষষ্ঠী পালনের দায়িত্ব নেন পরিমল দে। শেষ পাতে পরিমলবাবু আবার দিয়ে এলেন দুটো করে গাছ। যেন বলে এলেন ‘তোরা দুটোয় এমন ভাবেই ভালো থাক। তোদের ভালোবাসা হোক।এমনই সবুজ’। ওঁরা এই গাছ রোপন করবে শহরের বুকে। ভয়াল ঘূর্ণিঝড় হাজারও গাছকে ধ্বংস করে যখন শহরের বিষবায়ু বৃদ্ধি সম্ভাবনাময়, তখন নতুন দম্পতির ভালো বাসায় রাখা গাছ বেড়ে উঠে দেবে সুবাস বার্তা।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।