ঢাকা:  চরিত্র বদলে ফেলে নতুন রূপে আসছে চলেছে জামাত ইসলামি ? উঠছে এই প্রশ্ন৷ বাংলাদেশের এই কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠনটির নিবন্ধন বাতিল হওয়া ও ভোটে অংশ নিতে না পারার পর দলেরই একটি অংশ নরমপন্থায় ঝুঁকে সমান্তরাল সংগঠন প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হয়েছে৷ শনিবার নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করতে চলছে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও ধর্ষণে অভিযুক্ত জামাত ইসলামির নরমপন্থী শাখা৷

এই শাখার নেতা তথা জামাতের বহিষ্কৃত নেতা মুজিবর রহমান মঞ্জু জানিয়েছেন- আমরা প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। কিন্তু আমরা কোনও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠন করব না। ‘স্বাধীন সত্ত্বায় বিকশিত কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণের রাজনীতিকেই’ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে৷ বাংলাদেশ জামাত ইসলামি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত হওয়া এবং শাখা সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রাক্তন সভাপতি মঞ্জু৷

কট্টর ইসলামি চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে নরমপন্থী অবস্থান নিতে চলা জামাতের নতুন অংশটি কীরকম রাজনৈতিক ভূমিকা নেবে তার চর্চা চলছে৷ তবে সংগঠনের কট্টরপন্থী নেতৃত্ব তাদের ধর্মীয় কট্টরপন্থায় অনড়৷ দলের অন্যান্য নেতাদের নরমপন্থার সঙ্গে জড়িত না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাত ইসলামি কট্টরপন্থী দল হিসেবেই পরিচিত৷ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাশাপাশি একাধিক জামাত নেতার বিরুদ্ধে গণহত্যা-ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছে৷ অনেকের চরম শাস্তি এখনও ঘোষণা হয়নি৷ এই অবস্থায় জামাতের একাংশ নরমপন্থা নিতে উদ্যোগী হল৷ সংগঠনের সংস্কারপন্থীরা শনিবার তাদের নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে চলেছে৷ জানা গিয়েছে নতুন অংশটি তাদের পুরনো অবস্থান ধর্মভিত্তিক দল বা সংগঠনের মতো করতে চাইছে না৷ তাদের স্লোগান, ‘জন-আকাঙ্ক্ষার নতুন রাজনীতি’।

এক নজরে বাংলাদেশ জামাত ইসলামি:

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান সেনার মদত ও বিতর্কিত ভূমিকা নেওয়ার কারণে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর জামাত ইসলামিকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়৷ নেতারা পাকিস্তানে নির্বাসনে চলে যায়।

১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলে জামাতের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

১৯৭৯ সালের সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা আব্বাস আলি খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামাত ইসলামি প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই সংগঠনের উদ্দেশ্য হলো শরিয়া ভিত্তিক একটি ইসলামি রাষ্ট্র তৈরি করা৷

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের উপরে হামলা ও ধর্মান্তকরণের অভিযোগে বারে বারে সমালোচিত হয়েছে জামাত ইসলামি৷

২০১৩ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জামাতের নিবন্ধন নিবন্ধন অবৈধ এবং তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করে।

গত জাতীয় নির্বাচনে জামাত প্রার্থীরা সরাসরি দলীয় প্রতীকে ভোটে দাঁড়ায়নি৷ বরং তাদের জোট শরিক বিএনপির প্রতীকেই ভোটে নামে৷