ফাইল ছবি৷

প্রসেনজিৎ চৌধুরী, কলকাতা: উপত্যকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্র সরকার নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকাভুক্ত করেছে জামাত ই ইসলামি (জম্মু-কাশ্মীর)-কে৷ সংগঠনটির বিরুদ্ধে ভারত বিরোধী একাধিক উস্কানিমূলক মন্তব্য দেওয়া ও অবস্থান নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘ সময়ের৷ সংবাদ সংস্থা এএনআই ও আরও কিছু জাতীয়স্তরের সংবাদ মাধ্যমের খবর, সরকারের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রীনগর সহ বিভিন্ন স্থানে থাকা জামাত নেতৃত্বকে ধরপাকড় শুরু হচ্ছে৷

পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি জইশ ই মহম্মদ হামলা চালিয়েছিল পুলওয়ামায়৷ সেই হামলায় সেনা কনভয়ে থাকা জওয়ানরা শহিদ হন৷ এদিকে জঙ্গি হামলার পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি অশান্ত৷ একাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ সেই রেশ ধরে জামাত ইসলামি জম্মু-কাশ্মীর সংগঠনকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে সরকার৷

আর এই খবরের ভিত্তিতে ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি৷ জামাত ই ইসলামি সংগঠনটি নাকি নিষিদ্ধ এমনই ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে৷ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন জামাত ই ইসলামির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি মহম্মদ নুরুদ্দিন৷ তিনি www.kolkata24x7.com-কে টেলিফোনে জানান, বিভ্রান্তি ছড়ানো হলে তা দুঃখজনক৷ তবে স্বাধীনতার আগে থেকে অর্থাৎ অখণ্ড হিন্দুস্তানের আমলে জামাত ইসলামির কাশ্মীর গঠিত হয়েছিল৷ এই সংগঠনের সঙ্গে ‘জামাত ইসলামি হিন্দ’-এর কোনও সম্পর্ক তখনও ছিল না এখনও নেই৷ সরকার তাঁর অবস্থান থেকে যা বিচার করেছে জম্মু-কাশ্মীরের জামাত ইসলামির সঙ্গে তাই করেছে৷

নুরুদ্দিন সাহেব জানিয়েছেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা জামাত ই ইসলামি নেতা ও কর্মীরা তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন৷ ফলে জম্মু-কাশ্মীরের জামাতের সঙ্গে কোনওরকম সাংগঠনিক সম্পর্ক রাখা হয়না৷ তিনি আরও জানান, উপত্যকারা জামাত নেতৃত্বের তরফেও আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখা হয় না৷

মহম্মদ নুরুদ্দিন জানিয়েছেন, ভারত বিভাগের পর পাকিস্তানে জামাতের একটি শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়৷ পরে বাংলাদেশেও তার শাখা হয়েছে৷ যেহেতু কাশ্মীর স্বাধীনতার আগে একটি স্বশাসিত দেশীয় রাজ্য ছিল তাই সেখানে জামাত ইসলামি আলাদাভাবে কাজ শুরু করে৷ পরে জম্মু-কাশ্মীর ভারতে চলে এলেও তারা পৃথক অবস্থান বজায় রেখেছে৷

সংগঠনটির সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য খুঁজে দেখা গিয়েছে, কাশ্মীরের জামাত একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত। জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের তাদের অনেক নেতৃত্ব ছড়িয়ে৷ কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে ভারত-পাকিস্তান এবং জম্মু ও কাশ্মীরের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক আলোচনা হোক, এটাই চায় সংগঠনটি৷ উপত্যকায় একাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের যৌথ মঞ্চ অল পার্টি হুরিয়ত কনফারেন্সের শীর্ষে নেতাদের সঙ্গে জামাত ইসলামি (জম্মু-কাশ্মীর) সংগঠনের ভালো সম্পর্ক৷ বিভিন্ন সময়ে কাশ্মীরের জামাত কর্মীরা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে অংশ নেয়৷