প্রদ্যুত দাস, জলপাইগুড়ি: দিকে দিকে এখন একটাই রব ‘প্রতিবাদ’৷ জেলায় জেলায় হচ্ছে প্রতিবাদ মিছিল৷ আর এই প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হল জলপাইগুড়ি ছাত্র যুবসমাজ৷

মঙ্গলবার কলকাতায় বিজেপির জাতীয় সভাপতি অমিত শাহ এর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ছিল৷ আর সেখানেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অমিত শাহ-কে কালো পতাকা দেখায়৷ যাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র চেহারা নেয় কলকাতার কলেজ স্ট্রিট। তাণ্ডব থেকে বাদ পড়েননি বরেণ্য বাঙালি বিদ্যাসাগরের মূর্তি৷

ছাত্র সংঘর্ষের এই তাণ্ডব সামাল দিতে অবিলম্বেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। রাতে ঘটনাস্থলে যান স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। বিদ্যাসাগর এর মূর্তি ভাঙার এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে শিক্ষামহলে। নেট দুনিয়াতেও তামাম নাগরিকেরা ধিক্কার জানান এই ঘটনাকে।

আর এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই জলপাইগুড়িতে ব্যতিক্রমী ও অভিনবভাবে প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচী গ্রহণ করল জেলার ছাত্র যুবসমাজ। এদিন সকালে জেলার শিক্ষা ভবন ডিপিএসসি বিল্ডিং এর সামনে অবস্থিত বিদ্যাসাগরের মূর্তটিতে পুষ্পপ্রদান ও মাল্যদান করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন জলপাইগুড়ির ছাত্রযুবরা।

উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিয় চন্দ, শুভেন্দু বোস, অরিন্দম ভট্টাচার্য, গৌরব ঘোষ, শুভব্রত চৌধুরী সহ একাধিক ছাত্রযুব মুখ। বিদ্যালয়স্তরের ও কলেজ স্তরের ছাত্রছাত্রীরাও শামিল হন এদিনের কর্মসূচীতে। যুবনেতা অরিন্দম ভট্টাচার্য জানান, এই ঘটনা বাংলা বিরোধী। নিন্দা ও ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই।

কর্মসূচীর আহ্বায়ক তথা ছাত্রনেতা সুপ্রিয় চন্দ বলেন, ‘‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলার প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর মূর্তি ভাঙার ঘটনা বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিরোধী। আজকের এই কর্মসূচীর মাধ্যমে আমাদের শপথ বর্ণপরিচয়-এর ঋণ বাংলা কখনও ভুলবে না। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছ আবেদন করছি যাতে অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের যোগ্য শাস্তি প্রদান করা হয়।’’