প্রদ্যুত দাস, জলপাইগুড়ি: লড়াইটা ছিল তাঁর একার৷ সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লিঙ্গ পরিবর্তন করে অ্যানি হয়েছিলেন বালুরঘাটের অনীক দত্ত৷ জলপাইগুড়ি শহরের নয়াবস্তির সাগ্নিক চক্রবর্তীর সঙ্গে আড়াই বছরের প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল তাঁর৷ গতবছর তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন৷ মিস ট্রান্স ইন্ডিয়া সুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় অ্যানি৷

বুধবার পদাতিক ট্রেনে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে নেমে শ্বশুরবাড়ি ফিরলেন এই শহরের বউ অ্যানি৷ ঘরের বধূর এই সাফল্যে খুশির হাওয়া অ্যানির পরিবার সহ গোটা জলপাইগুড়ি শহরে। স্টেশনেই তাকে বিশেষভাবে বরণ করেন পরিবারের সদস্যরা। রবিবার সন্ধ্যায় মিস ট্রান্স ইন্ডিয়া সুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। এবার তৃতীয় লিঙ্গের বিশ্ব সুন্দরীদের মুকুট মাথায় পড়ার স্বপ্নে বিভোর জলপাইগুড়ি শহরের নয়াবস্তি এলাকার বধূ অ্যানি। এবার বিশ্ব সুন্দরীদের আসরে অংশ নিতে সুইডেনে যাবেন তিনি।

২০১৬ সালে কলকাতায় বর্ষ শেষের এক নাইট পার্টিতে জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকার বাসিন্দা সাগ্নিক চক্রবর্তীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল বালুরঘাটের চকভৃগু এলাকার বাসিন্দা অ্যানির। সাগ্নিক তখন কলকাতায় পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিং করতেন। ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। অ্যানিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন সাগ্নিক। শেষে দুই পরিবারের সম্মতিতে গত অক্টোবর মাসে জলপাইগুড়িতে একটি ভবনে বেশ ঘটা করে বিয়ে হয় তাঁদের।

সাগ্নিক এখন ময়নাগুড়িতে শিক্ষকতা করছেন। অ্যানি নিজেও শিক্ষকতা করেন। নতুন জীবনে প্রবেশ করে স্বামীর সংসার আর স্কুল সামলাতেই কেটে গিয়েছে ছয় মাস। তাই মডেলিং থেকে এতদিন কিছুটা দূরেই ছিলেন অ্যানি। সম্প্রতি দিল্লি থেকে এলিনা প্রেজেন্টস মিস ট্রান্স ইন্ডিয়া ২০১৯ প্রতিযোগিতার ডাক পেয়ে অ্যানি তাতে অংশ নেন।

দীর্ঘদিন পর র‍্যাম্পে নেমেও সকলের নজর কেড়ে নেন জলপাইগুড়ি শহরের এই নববধূ। তৃতীয় লিঙ্গের জাতীয় সুন্দরী প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হন অ্যানি। ভারত সেরা হওয়ার পর এবার তাঁর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিশ্ব সুন্দরীর খেতাব অর্জন করা।