জলপাইগুড়ি জেলা পরিচিতি :

শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : জলপাইগুড়ি জেলা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ভাগে অবস্থিত। জেলাটির পূর্বে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলা,পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলা, উত্তরে ভুটান রাষ্ট্র এবং দক্ষিণে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলা এবং বাংলাদেশ-এর পঞ্চগড় জেলা অবস্থিত। ইতিহাস অনুযায়ী এই জেলার নাম জল্পেশ্বর থেকে এসেছে যেটা শিব ঠাকুরের আরেক নাম,কিন্তু কেউ কেউ বলে এই স্থানে আগে নাকি জলপাই এর গাছ প্রচুর মাত্রায় ছিল,যাহার জন্য এই জায়গার নাম জলপাইগুড়ি। পূর্বে এই স্থানটি কোচ-রাজবংশীদের এক ভাগ ছিল যাহার নাম ছিল কামতাপুর।১৮৬৯ সালে এই জেলাটির স্থাপন করা হয়।

জলপাইগুড়ি জেলায় মোট ১২টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। আমরা দ্বিতীয় পর্বে ময়নাগুড়, জলপাইগুড়ি, রায়গঞ্জ, ডাবগ্রাম ,মাল, নাগরাকাটা বিধানসভা নিয়ে আলোচনা করব।

ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র :

ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী অনন্তদেব অধিকারী ১ লক্ষ ৮৩৭টি ভোট পেয়ে নির্বাচনে জয়ী হন। তিনি ৪৭.৮৫% ভোট পান। অনন্তদেব অধিকারীর কাছে পরাজিত হন ছায়া দে। ছায়া দে পান ৬৫ হাজার ৯৩০ ভোট। শতকরা হিসেবে যা ৩১.২৯%।

জলপাইগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র :

২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী ধরিত্রী মোহন রায় কংগ্রেস প্রার্থী সুখ বিলাস বর্মাকে পরাজিত করে নির্বাচনে জয়ী হন। তৃণমূল প্রার্থী ধরিত্রী মোহন রায় পান ৮৯,৩৯৬ ভোট এবং কংগ্রেস প্রার্থী পান ৯৪,৫৫৩ ভোট। বিজেপি প্রার্থী তপন রায় এই নির্বাচনে ১৬,০২৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান পান।

রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র :

২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী খগেশ্বর রায় সিপিএম প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ মন্ডলকে পরাজিত করেন। ২০১১ সালেও তৃণমূল প্রার্থী খগেশ্বর রায় জয়ী হয়েছিলেন। বিজেপি ২০১৬-র নির্বাচনে এই কেন্দ্রে চতুর্থ স্থান পায়।

ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র :

২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব সিপিএম প্রার্থী দিলীপ সিংকে পরাজিত করেন। গৌতম দেব পান ১০৫,৭৬৯ ভোট। সিপিএম-এর জয়ী হন। তাঁর কাছে নির্বাচনে পরাজিত হন দিলীপ সিং পান ৮১,৯৫৮ ভোট। শতকরার হিসেবে গৌতম দেব পান ৪৭.৪৮৯% ও দিলীপ সিং পান ৩৬.৭৯৮% ভোট।

মাল বিধানসভা কেন্দ্র :

২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে মাল বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বুলু চিক বারাইক। তিনি সিপিএম প্রার্থী অগাস্টাস কেরকেট্টাকে পরাজিত করেন। গত ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বুলু চিক বারাইক জয়ী হন। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে বিজেপি এই বিধানসভা কেন্দ্রে ২০১৬-র নির্বাচনে তৃতীয় স্থান দখল করে নেয়।

নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্র :

২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের সুকড়া মুন্ডা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের জোসেফ মুন্ডাকে পরাজিত করেন। কড়া মুন্ডা পান ৫৭,৩০৬ ভোট। জোসেফ মুন্ডা পান ৫৪,০৭৮ ভোট। শতাংশের হিসেবে দেখলে তৃণমূল প্রার্থী পান ৩২.৪৬ % এবং কংগ্রেস প্রার্থী পান ৩০.৬০ % ভোট। জন বারলা ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে ৪৭,৮৩৬ ভোট পান। শতাংশের হিসেবে তিনি ২৭.০৯ % ভোট পেয়ে ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে তৃতীয় স্থান লাভ করেন।

সার্বিকভাবে দেখলে বোঝা যায় ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে বিজেপি-র ভালো ফল করার নিচনে ২০১৬- থেকেই পরিস্থিতি তৈরী হচ্ছিল। তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গের সভা থেকে সেখানকার মানুষদের কাছে ভোট চেয়ে এবার আবেদন জানালেও সেটা ক্ষতটা বাস্তব হবে তা সময় বলবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।