স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: ভয়ঙ্কর৷ বিরলও বটে৷ আঁতকে ওঠার মতো চেহারা৷ দেখতে অমানবিয়৷ এক্কে বারে ভিন গ্রাহের বাসিন্দাদের কাল্পনিক ছবি৷ তাহলে কি এলিয়েন? সম্ভবত! ব্যাস, রটল খবর৷ গুজব৷ মর্তে ভিন গ্রহের প্রাণী! আর তাতেই হইচই৷ তোলপাড় গ্রাম৷ চূড়ান্ত বিভ্রান্তি৷ বেগতিক পরিস্থিতি৷ অগত্যা সমস্যা মেটানোর দায় নিলেন জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা৷ গুজব রুখতে জনতাকে বোঝানোর পালা৷

চিকিৎসকদের বক্তব্য, কোনও ভিনগ্রহের প্রাণী নয়৷ নবজাতক আসলে কলোডিয়ান শিশু৷ চর্মগত বিকৃতি নিয়ে জন্মানো এই শিশুকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টায় এখন দিনরাত এক করে দিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্স ও কর্মীরা৷

গত রবিবার জেলা হাসপাতালের মাদার এন্ড চাইল্ড হাবে শিশুটির জন্ম দেন ময়নাগুড়ির জল্পেশ মোড় এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ রেখা রায় (১৯)। স্বামী দুলাল রায় পেশায় ট্রাক চালক৷ এক বছরের দাম্পত্য জীবনে এটিই তাদের প্রথম সন্তান৷ স্বাভাবিক ভাবেই পুত্র সন্তানের জন্মানোর খবরে আপ্লুত ছিলেন দুজনেই৷ কিন্তু, সন্তানের মুখ দর্শনেই চমকে উঠেছিলেন দম্পতি৷ তবে, নিজেদের সন্তান বলে কথা৷ আশ্বস্ত করেছিলেন চিকিৎসকরা৷

জন্মের পরই শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় সিক নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটে৷ সেখানেই শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টায় লেগে রয়েছেন চিকিৎসকরা৷ চিকিৎসকদের বক্তব্য, এটি একটি বিরল রোগ৷ কয়েক লক্ষ শিশুর মধ্যে একজন শিশু এমন রোগের লক্ষণ নিয়ে জন্ম নিয়েছে৷

জেলা সদর হাসপাতাল সুপার গয়ারাম নস্কর জানান, ডাক্তারি পরিভাষায় এই ধরনের শিশুকে বলা হয় কলোডিয়ান বেবি (collodian baby)।জিন গত কারনেই এই রোগ দেখা দেয়। চামড়ার জটিল সমস্যা নিয়ে জন্মনেয় কলোডিয়ান শিশুরা।চামড়ায় ইলাস্টিসিটি না থাকার জন্যই ফাটতে থাকে শরীর। শরীরের প্রয়োজনীয় অংশগুলির সময় মতো বহিঃপ্রকাশ হয়না।জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের ইতিহাসে জন্ম নেওয়া এটিই প্রথম কলোডিয়ান বেবি।হাসপাতাল সুপার জানান,শিশুটিকে সুস্থ শরীরে পরিবারের হাতে তুলে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।সুপার বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই শিশু রোগ এবং চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল টিম তৈরি করা হয়েছে৷’’ তাদের তত্বাবধানেই শিশুটির চিকিৎসা চলছে৷ রয়েছেন মা রেখা রায় ও।প্রথম দিন থেকেই শুধু কেঁদেই চলেছেন প্রসুতি৷ বলেন, অনেকে অনেক কথাই বলছেন৷ কিন্তু সন্তানতো আমার।

প্রসুতি মা জানান, ‘‘সব যন্ত্রণা আমাকেই সইতে হচ্ছে৷ কেউ বলছেন গ্রহণে খাবার খেয়ে ফেলেছি৷ কারও বক্তব্য, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারনেই এই ঘটনা৷ স্বস্থি একটাই পাশে পেয়েছেন স্বামীকে৷ রেখা দেবীর বক্তব্য, আমি চাই ডাক্তার বাবুরা আমার ছেলেকে সুস্থ করে আমার কোলে তুলে দিন।সে যেমন চেহারারই হোক! সন্তা তো আমারই। এখনও ডাক্তারেরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন নবজাতককে বাঁচিয়ে কী করে রাখা যায়৷’’