জলপাইগুড়ি: একই পরিবারের দুই ভাইয়ের জ্বরে মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গোটা গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামবাসীদের আতঙ্ক কাটাতে বৃহস্পতিবার এলাকায় সচেতনতা শিবির করা হয়। জলপাইগুড়ি‌র ব্রক্ষ্মোতলপাড়ার ঘরে ঘরে ক্রমেই আতঙ্ক বাড়াচ্ছে জ্বর। স্ক্রাব টাইফাসের আতঙ্ক এলাকাজুড়ে। আতঙ্ক কাটাতে এলাকায় সচেতনতামূল প্রচার শুরু করেছেন স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা। জ্বর নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

একটানা ৭ দিন মরণপণ লড়াইয়ের পর গত রবিবার সকালে মৃত্যু হয় জলপাইগুড়ি‌র ব্রক্ষ্মোতলপাড়ার যুবক দোলন দামের। তারও ৪ দিন আগে মৃত্যু হয়েছিল দোলনের দাদা প্রদীপ দামের। ১৫ ডিসেম্বর ডুয়ার্সের একটি চা-‌বাগানে বেড়াতে গিয়েছিলেন দোলন দাম। বাড়ি ফিরে আসার পর শরীরে একটি লাল দাগ। পরের দিনই দোলনের সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে সেই ফুসকুড়ি। একইসঙ্গে প্রচণ্ড জ্বরে কাঁপতে থাকেন দোলন। দোলনের উপসর্গ দেখে স্ক্রাব টাইফাস বলে সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের।

এদিকে ভাইকে জ্বরে কাঁপতে দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন দাদা প্রদীপ দামও। ভাইয়ের শুশ্রুষা শুরু করেন তিনি। দু’দিন ধরে ভাই দোলন দামের শুশ্রুষা করতে গিয়ে একই উপসর্গ দেখা দেয় দাদা প্রদীপ দামেরও। পরে তিনিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

দুই ভাইকেই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে নিয়ে গেলে ২৪ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় প্রদীপ দামের। এদিকে কয়েকদিন পরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় প্রদীপের ভাই দোলন দামেরও।

জ্বরে একই পরিবারের দুই সদস্যের পরপর মৃত্যুর জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। স্ত্রাব টাইফাসের আতঙ্কে ভুগতে থাকেন বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের আতঙ্ক কাটাতে গ্রামে পাঠানো হয় স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধি দল। সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা।

জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবাশিস সরকার জানান, মৃতদের ডেথ সার্টিফিকেটে স্ক্রাব টাইফাসের উল্লেখ নেই। ওই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে সেপ্টিসেমিয়ায়। আর তাই ওই এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার শুরু হয়েছে। এরই পাশাপাশি ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো হয়েছে এলাকায়।