স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: বিএসএনএলের কর্মীদের বেতন নিয়ে টালবাহনা এবং সম্প্রতি সাতজন কর্মীর আত্মহত্যার ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দিনভোর বিএসএনএল দফতরের গেটে তালা লাগিয়ে ধর্মঘট পালন করলেন বিএসএনএল দফতরের অস্থায়ী কর্মীরা। অবিলম্বে বকেয়া বেতন না দেওয়া হলে তাদের মৃত্যু বরণের অনুমতি দেওয়া হোক। এই শ্লোগানকে সামনে রেখে জোরদার আন্দোলন শুরু করেন তাঁরা।

জানা গিয়েছে, বিগত সাত মাস ধরে বেতনহীন রয়েছে বিএসএনএল দফতরের প্রায় আড়াইশো কর্মী। এই অবস্থায় কয়েকমাস ধরে তাঁদের অর্ধাহার ও অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে, অর্থের অভাবে ওই সব কর্মীদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এই নিয়ে বিএসএনএল কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন নিবেদন করলেও এখনও পর্যন্ত কোনও লাভ হয়নি তাঁদের। এত দিনেও মেলেনি বেতন। সূত্রের খবর, এদিনের অবস্থান বিক্ষোভ ধর্মঘটে ডুয়ার্স সহ জলপাইগুড়ি জেলার প্রায় আড়াইশো অস্থায়ী কর্মী সামিল হয়েছেন।

আন্দোলন‌ে অংশ গ্রহণকারী সংগঠনের নেতা বিকাশ বিশ্বাস বলেন, ‘‌গত সাত মাস ধরে আমাদের কোনও অস্থায়ী কর্মীদের বেতন দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে বিএসএনএল দফতরে ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। ডুয়ার্স সহ জলপাইগুড়ি জেলার প্রায় আড়াইশো অস্থায়ী শ্রমিক কর্মচারী সামিল হয়েছে এই ধর্মঘটে। আন্দোলনকারীরা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত অস্থায়ী কর্মীদের ন্যূনতম আঠারো হাজার টাকা বেতন দেওয়ার দাবি রয়েছে। অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া বেতন দেওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের সঠিক সময়ে বেতন দিতে হবে বলে দাবি তোলেন তারা।

বিএসএনএল মজদুর ইউনিয়নের শ্রমিকরা বলেন, ক্যাজুয়াল, কন্ট্রাক্ট ও সিকিউরিটি গার্ডদের অবিলম্বে বকেয়া বেতন না দেওয়া হলে তাদের মৃত্যু বরণের অনুমতি দেওয়া হোক। কারণ, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে এই দফতরের কর্মীদের অর্ধাহার ও অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। এভাবে আর বেশি দিন বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া বেতন দেওয়া হোক। অথবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কর্মীদের মৃত্যু বরণের অনুমতি দেওয়া হোক। এদিকে অর্থের অভাবে কর্মীদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।