লোকসভা কেন্দ্র: জলপাইগুড়ি

২০১৪ সালের নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের এই লোকসভা কেন্দ্রটি তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে গিয়েছিল৷ ঘাসফুল বিজয় চন্দ্র বর্মন জয়ী হয়েছিলেন৷ এবারও তাঁকে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে তৃণমূল৷

১৯’এর নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম:

তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী: বিজয় চন্দ্র বর্মন

কংগ্রেস প্রার্থী: মনিকুমার ডার্নাল

বামফ্রন্ট প্রার্থী: ভগীরথ রায়

বিজেপি প্রার্থী: জয়ন্ত রায়

জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রেটি তফশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত৷ এই কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা: ১,৭৩১,৮৩৪

এই কেন্দ্রের অধীনে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র:

মেখলিগঞ্জ, ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, রায়গঞ্জ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, ম্যাল

মেখলিগঞ্জ: এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অর্ঘ্য রায় প্রধান ৭৪,৮২৩ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷ দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বামফ্রন্ট মনোনীত ফরোয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী পরেশ চন্দ্র অধীকারী৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৬৮, ১৮৬ হাজার৷তৃতীয় স্থানে ছিলেন নির্দল প্রার্থী সুনীল চন্দ্র রায়৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ২৩,৫৪০ হাজার৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
তৃণমূল কংগ্রেস- ৭৪,৮২৩
বামফ্রন্ট- ৬৮, ১৮৬

ধূপগুড়ি: এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস মিতালি রায় জয়ী হয়েছিলেন৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৯০,৭৮১ হাজার৷ বামফ্রন্ট প্রার্থী মমতা রায় পেয়েছিলেন ৭১,৫১৭ হাজার ভোট৷ তৃতীয় স্থানে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী আগুন রায়৷ তিনি পেয়েছিলেন ৩৬,১৬৭ হাজার ভোট৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
তৃণমূল কংগ্রেস- ৯০,৭৮১
বামফ্রন্ট- ৭১,৫১৭
বিজেপি- ৩৬,১৬৭

ময়নাগুড়ি: এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অনন্ত দেব অধিকারী ১,০০,৮৩৭ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷দ্বিতীয় হয়েছিলেন বামফ্রন্ট মনোনীত আরএসপি প্রার্থী ছায়া দেব৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৬৫, ৯৩০ হাজার৷বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ রায় ছিলেন তৃতীয় স্থানে৷ তিনি পেয়েছিলেন ৩০,৭৪২ হাজার ভোট৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
তৃণমূল কংগ্রেস- ১,০০,৮৩৭
বামফ্রন্ট- ৬৫, ৯৩০
বিজেপি- ৩০,৭৪২

জলপাইগুড়ি: এই বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী সুখবিলাস শর্মা ৯৪,৫৫৩ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ধরিত্রী মোহন রায়৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৮৯,৩৯৬ হাজার ভোট৷বিজেপি প্রার্থী তপন রায় ১৬,০২৯ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
কংগ্রেস- ৯৪,৫৫৩
তৃণমূল কংগ্রেস- ৮৯,৩৯৬
বিজেপি- ১৬,০২৯

রাজগঞ্জ: এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী খগেশ্বর রায় ৮৯,৭৮৫ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷ বামফ্রন্ট প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ মণ্ডল ৭৫,১০৮ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন৷তৃতীয় স্থানে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী প্রকাশ চন্দ্র রায়৷ তিনি পেয়েছিলেন ১৭,৮১১ হাজার ভোট৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
তৃণমূল কংগ্রেস- ৮৯,৭৮৫
বামফ্রন্ট- ৭৫,১০৮
বিজেপি- ১৭,৮১১

ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি: এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেব ১,০৫,৭৬৯ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন৷ দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বামফ্রন্ট প্রার্থী দিলীপ সিং৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৮১,৯৫৮ হাজার৷বিজেপি প্রার্থী রথীন্দ্র বোস ২৬,১৯৫ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছিলেন৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
তৃণমূল কংগ্রেস- ১,০৫,৭৬৯
বামফ্রন্ট- ৮১,৯৫৮
বিজেপি- ২৬,১৯৫

ম্যাল: এই বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বুলু চিক বারেক৷ তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৮৪,৮৭৭ হাজার৷ দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বামফ্রন্ট প্রার্থী অগাস্টাস কারকেট্টা৷ তিনি পেয়েছিলেন ৬৬,৪১৫ হাজার ভোট৷বিজেপি প্রার্থী ভাগে ছিলেন তৃতীয় স্থানে৷ তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ২১,৭৫৬ হাজার৷

দল- প্রাপ্ত ভোট
তৃণমূল কংগ্রেস- ৮৪,৮৭৭
বামফ্রন্ট- ৬৬,৪১৫
বিজেপি

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অধিকাংশই আসনেই নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে লড়েছিল কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট৷তাই বাম ও কংগ্রেস প্রার্থীরা যে ভোট পেয়েছে সেটা দু-দলের জোটফল৷ আলাদা লড়াই করলে কংগ্রেস সাতটি আসনে প্রার্থী দিত এবং বামেদের ভোট কমত৷তবে এবার নির্বাচনে দুই দলই আলাদা লড়ছে৷

২০১৬ সালের সাতটি বিধানসভা ভোটের ফলাফল বিচার করলে দেখা যাচ্ছে জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল৷ যদিও বিরোধীদের বক্তব্য, বিধানসভা ও লোকসভা ভোটের ইস্যু সম্পূর্ন আলাদা৷ তাই বিধানসভা ভোটের নিরিখে লোকসভা ভোটের ফলাফল বিচার করা ঠিক হবে না৷