চেন্নাই: তামিলনাডুতে পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে জাল্লিকাট্টু। এবছর ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এই প্রথা। আর দুইদিন যেতে না যেতেই এল মৃত্যুর খবর। বৃহস্পতিবার ষাঁড়ের আঘাতে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। নিজের ষাঁড়ের আঘাতেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। মৃতের নাম পি মুরগান।

জানা গিয়েছে, নিজের ষাঁড়কে সঙ্গে নিয়ে মুরগান জাল্লিকাট্টুতেই অংশগ্রহণ করতে এসেছিল। যখন এই দুর্ঘটনা ঘটে তখন মুরগান ‘বুল ড্যান্স’ প্র্যাকটিস করছিল বলে জানা গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, বিকট ড্রামের শব্দে হুঁশ হারিয়ে ফেলে ষাঁড়টি আর আক্রমণ করে বসে তার মালিককেই। মৃত্যু হয় মুরগানের।

অন্যদিকে অভানিয়াপ্পুরমে জাল্লিকাট্টুতে অংশ গ্রহণের সময় ৬৬ জন ব্যক্তি আহত হয়। এদের মধ্যে ৩৭ জন জাল্লিকাটুতে ষাঁড়েদের প্রশিক্ষক আর বাকিরা কেউ ওই ষাঁড়ের মালিক। আবার কেউ বা শুধুই দর্শক।

বৃহস্পতিবার ভাড়িভাসালে হওয়া জাল্লিকাট্টুতে অংশ নেয় প্রায় ৬৬০ টি ষাঁড়। এর সেখানে জাল্লিকাট্টুতে আহত হয় কমপক্ষে ২৬ জন। এদের মধ্যে ১০ জনকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রতেও পাঠাতে হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, এদের মধ্যে কেউ গুরুতর আহত নন। এই পুরো ঘটনাটিই বড় স্ক্রিনে সেখানে দেখানও হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে এক পশুপ্রেমী সংস্থা জালিকাট্টুর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল। সেইমতো সর্বোচ্চ আদালত উৎসব নিষিদ্ধ করে দেয়। কিন্তু তামিলনাড়ু সরকার জানায়, জালিকাট্টু তাদের সংস্কৃতির অঙ্গ। জালিকাট্টু নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে চেন্নাইতে রীতিমতো উত্তেজনা দেখা যায়। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্সিকিউটিভ অর্ডার দিয়ে ফের ওই উৎসব চালু করেন।

উল্লেখ্য, প্রথা–র সমর্থকরা বলছেন, ৫০০ বছর ধরে এই খেলা চলে আসছে। ‘‌হিংস্র’‌ বলে তা বন্ধ করা যাবে না। আর বিরোধীদের বক্তব্য, পশুদের ওপর হিংস্র আচরণ করা হয়। অবিলম্বে তা বন্ধ করা উচি